‘দিদিকে না তাড়ালে কংগ্রেসের এই হাল হতো না!’-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সামনেই চরম হিউমার কল্যাণের

মহিলা সাংসদদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে লোকসভার চলমান বাদল অধিবেশনে সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বরখাস্ত হওয়ার পরেও দমে না থেকে প্রতিদিন সংসদের বাইরে ভিন্ন মেজাজে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। গত কয়েক দিন ধরেই তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের ছবি হাতে নিয়ে ‘গদ্দার’ স্লোগান দিচ্ছেন কল্যাণ। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘ভাজপা কে সাথ সংসদ মে বিশ গদ্দার মজুত হ্যায়…।’ আর বৃহস্পতিবার সকালেও এই একই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সংসদ চত্বর, যেখানে খোদ কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে এক মজার ও রাজনৈতিক তর্কের মুহূর্ত তৈরি হলো।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মুখোমুখি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ ভবনের বাইরে যথারীতি নিজের গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে স্লোগান দিয়ে চলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় সেই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং বিহারের পুর্নিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব সহ অন্যান্যরা। কল্যাণকে ওইভাবে স্লোগান দিতে দেখে তাঁরা হাসতে হাসতে তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন। তাঁদের দেখে কল্যাণও আরও উৎসাহে স্লোগান আরও জোরদার করে তোলেন।

প্রিয়াঙ্কা-কল্যাণের মজাদার ও রাজনৈতিক সংলাপ

  • কল্যাণের আক্রমণ: প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সামনে আসতেই কল্যাণ বলেন, ‘গদ্দারদের নিয়ে বসে আছেন নরেন্দ্র মোদী।’ এরপর লোকসভায় প্রিয়াঙ্কার সাম্প্রতিক ভাষণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সে দিন সংসদে খুব বললেন আপনি। রাহুলজিও ভালো বলেছেন।’

  • পোস্টার নিয়ে প্রশ্ন: প্রিয়াঙ্কা তখন কৌতূহল প্রকাশ করে জানতে চান, ‘আপনার গলায় যে পোস্টার ঝুলছে, কাদের ছবি?’ কল্যাণ জবাব দেন, ‘এখানে ২০ জন গদ্দার সংসদে রয়েছে, মোদীজির পাশে বসে আছেন। ওদের তো ডিফেকশন (দলত্যাগ বিরোধী আইন) হওয়া উচিত।’

  • প্রিয়াঙ্কার মিষ্টি কটাক্ষ: কল্যাণের কথা শুনে হেসে ফেলে প্রিয়াঙ্কা মজা করে বলেন, ‘কিছু লোক প্রথমে আমাদের এখান থেকে আপনাদের দলে গেল, এখন আপনাদের দল থেকে বিজেপি-তে।’

  • কল্যাণের ঐতিহাসিক খোঁচা: প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যের পরই পুরনো প্রসঙ্গ টেনে এনে কল্যাণ বলেন, ‘আপনাদের দল থেকে ২০১৪ সালে অনেকে গিয়েছিল, কারণ পশ্চিমবঙ্গে আপনাদের দলের কোনো রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ছিল না। ওরা তো আমাদের দলের টিকিটে জিতেছিল, কখনও আপনাদের দলের টিকিটে সংসদে ঢুকতে পারেনি। কংগ্রেসে তো আমিও ছিলাম, যুব কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আপনারা তো দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তাড়িয়ে দিয়েছিলেন ১৯৯৭ সালে। দিদিকে না তাড়ালে আজ এরকম হাল হত না কংগ্রেসের।’

সংসদের বাইরে দুই নেতার এই খোলামেলা ও রাজনৈতিক রসিকতা ভরা কথোপকথন এখন রাজনৈতিক মহলে দারুণ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।