ছাত্র আন্দোলনে পেলেট গান হামলার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ! খোদ রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক টুইটে কাঁপল সংসদ

ছাত্র বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেপরোয়া ও নিষ্ঠুর ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল পরিবেশের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান বা ছররা গুলি চালানোর অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। আর এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই খোদ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে তীব্র আক্রমণ শনিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি নজরদারিতে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। এই চাঞ্চল্যকর ইস্যুকে কেন্দ্র করে আজও সংসদ চত্বরের মকরদ্বারে বিরোধীরা তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও স্বয়ং যোগ দেন।

সরকারি নথিপত্র ও পুলিশি সূত্রের তথ্যে জানা গিয়েছে, গত ২২ জুলাই পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF-এর এক ডেপুটি কমান্ডান্টের দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে একটি অফিশিয়াল জেনারেল ডায়েরি বা জিডি এন্ট্রি করা হয়। সেই গোপন সরকারি রেকর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, গত ২০ জুলাই যখন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ঐতিহাসিক সংসদ মার্চ কর্মসূচি পালন করছিলেন, সেই উত্তাল পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ হটাতে দুই রাউন্ড ‘প্লাস্টিক পেলেট’ বা ছররা গুলি ছোড়া হয়েছিল। অথচ এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে লাগাতার দাবি করা হয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই বিক্ষোভে কোনো ধরনের ছররা গুলি বা পেলেট গান ব্যবহার করা হয়নি। পুলিশের এই দ্বিমুখী অবস্থান এবং দমনপীড়নের তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সংসদের অন্দরে এই পেলেট গান বা ছররা গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ঠিক কার কাছ থেকে এসেছিল, সেই জোরালো প্রশ্ন তুলে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিরোধী সাংসদরা। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার বারবার দাবি করেছে যে কোনো পেলেট গান ব্যবহার করা হয়নি, অথচ বাস্তব প্রমাণ বলছে অন্য কথা। তিনি এক প্রতিবাদী যুবকের ছবি ও নথি দেখিয়ে বলেন, যখন দেশের এক যুবক হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, ঠিক তখনই তার ওপর ছররা গুলি চালানো হয়। এর ফলে ওই যুবকের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছে। সরকারের এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা করে রাহুল গান্ধী অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হস্তক্ষেপে দোষী আধিকারিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।