BS-III গাড়িতে E20 পেট্রোল ব্যবহারে কী প্রভাব পড়ে? কেন্দ্রের বড় সাফাই রাজ্যসভায়

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, ২০১৬ সালের আগে নির্মিত পুরনো BS-III গাড়িতে E20 পেট্রোল ব্যবহার করলে কিছু রবারের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাসকেট পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইথানল-মিশ্রিত এই জ্বালানি গাড়ির সামগ্রিক কর্মক্ষমতায় কোনো উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না এবং গাড়ির মূল ইঞ্জিনেও কোনো ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজ্যসভায় সিপিআই সাংসদ এ এ রহিম (CPI MP A A Rahim)-এর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানান যে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL), দেহরাদুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোলিয়াম (IIP), সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM) এবং অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ARAI)—এই সমস্ত সংস্থাগুলি যৌথভাবে দুই-চাকা ও চার-চাকা গাড়িতে E20 জ্বালানির প্রভাব নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমীক্ষা চালিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে BS-VI গাড়িগুলি E20 জ্বালানি ব্যবহার করেও নির্ধারিত দূষণ নিয়ন্ত্রণের মান নিখুঁতভাবে বজায় রাখতে সম্পূর্ণ সক্ষম। পাশাপাশি, সাধারণ গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে E20 জ্বালানি ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের যান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই বলেও সমীক্ষায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ইঞ্জিনে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই’
নিতিন গড়করি বলেন, সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গিয়েছে যে E20 জ্বালানি ব্যবহারে, এমনকি পুরনো গাড়িগুলির ক্ষেত্রেও, গাড়ির কর্মক্ষমতার উপর কোনো উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

তিনি আরও বলেন, ‘‘এই সমীক্ষাগুলি নিশ্চিত করেছে যে পুরনো গাড়িগুলিতেও E20 জ্বালানি ব্যবহারে কর্মক্ষমতায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি এবং অস্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতিরও কোনো প্রমাণ মেলেনি। গাড়ি চালানোর সক্ষমতা, ইঞ্জিন স্টার্ট নেওয়ার ক্ষমতা, ধাতব অংশের সামঞ্জস্য কিংবা প্লাস্টিকের অংশের সামঞ্জস্য— কোনো ক্ষেত্রেই কোনো রকম সমস্যা দেখা যায়নি।’’

তবে মন্ত্রী এও জানান যে, ১ এপ্রিল ২০০৫ থেকে চালু হওয়া এবং ২০১৬ সালের আগে নির্মিত BS-III গাড়িগুলির ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, সুরক্ষার খাতিরে কিছু রবারের যন্ত্রাংশ ও গ্যাসকেট পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

গড়করি বলেন, ‘‘শুধুমাত্র ১ এপ্রিল ২০০৫ থেকে চালু হওয়া এবং ২০১৬ সালের আগে নির্মিত কিছু BS-III গাড়ির পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে কিছু নির্দিষ্ট রবারের যন্ত্রাংশ ও গ্যাসকেট বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, গাড়িগুলির নিয়মিত সার্ভিসিং বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় খুব সহজেই এই ছোট কাজটি করে নেওয়া সম্ভব।’’