২৭ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ায় কামব্যাক করবেন ভুবনেশ্বর কুমার? রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বিস্ফোরক দাবিতে শোরগোল!

ক্রিকেট ময়দানে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন টিম ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ তথা তারকা পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ডানহাতি সুইং বোলারের ২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন নিয়ে এবার এক বড় এবং চাঞ্চল্যকর মতামত প্রকাশ করেছেন ভারতের অন্যতম সফল ও অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের পুরুষদের এই মর্যাদাপূর্ণ ওয়ানডে বিশ্বকাপের যৌথভাবে আয়োজক দেশ হিসেবে থাকছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া। ভুবনেশ্বর কুমার এর আগে শেষবারের মতো ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এবং ঠিক একই বছরে তিনি তার শেষ একদিনের ম্যাচটিও খেলেছিলেন। এরপর থেকেই বয়স বৃদ্ধি (বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৬ বছর) এবং মাঝেমধ্যে চোট-আঘাতের সমস্যার কারণে টিম ম্যানেজমেন্টের স্কোয়াডের বাইরেই রাখা হয়েছে তাঁকে। তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘সুইং কিং’ খ্যাত ভুবি ভারতীয় দলে সুযোগ পান, তবে টুর্নামেন্টের সময় তাঁর বয়স হবে ৩৭ বছর এবং তিনি হবেন দলের অন্যতম প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার।

সম্প্রতি জনপ্রিয় স্পোর্টস পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো (ESPNCricinfo)-র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিওয় রবিচন্দ্রন অশ্বিন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আগামী বিশ্বকাপে ভুবনেশ্বরের দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তাঁর মতামত সম্পূর্ণ ইতিবাচক বা ‘হ্যাঁ’। অশ্বিন তাঁর বক্তব্যে বলেন যে তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে ভুবির সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁকে সমস্ত ধরনের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট—যেমন ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট, বিজয় হাজারে ট্রফি এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত ও সেরা ছন্দে রাখার পরামর্শ দেবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আসন্ন কঠিন চ্যালেঞ্জিং সফরের জন্য ভুবনেশ্বরকে সেরা ফর্মের শিখরে দেখতে চান অভিজ্ঞ এই স্পিনার, কারণ তাঁর মতে প্রোটিয়াদের মাটিতে স্বিং ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণে তৈরি ভুবির উপস্থিতি দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি প্রমাণিত হবে। পরিসংখ্যানে নজর দিলে দেখা যায় যে, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলা মোট ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভুবনেশ্বর ৩৫.২৬ গড়ে ১৯টি উইকেট শিকার করেছেন, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ছিল মাত্র ২৪ রান খরচ করে ৫টি উইকেট। এর মধ্যে ১৯টি উইকেটের মধ্যে দুটি উইকেট আসে ওয়ানডে ম্যাচ থেকে, যা তিনি মোট আটটি একদিনের ম্যাচে খেলে সংগ্রহ করেছিলেন।

চলতি ঘরোয়া মরসুমে এই অভিজ্ঞ বোলারের দুর্দান্ত ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ক্রিকেট মহলের নজর এড়ায়নি। অত্যন্ত ব্যাটিং-সহায়ক এবং রানবন্যা পিচেও নিজের সনাতন টেস্ট-স্টাইল বোলিং অ্যাকশন, নিখুঁত ইয়র্কার এবং মারাত্মক সুইংয়ের চাতুর্য দেখিয়ে তিনি ব্যাটারদের ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন। সদ্য সমাপ্ত মরসুমে তিনি ১৬টি ম্যাচে ১৭.৮৯ এর চমৎকার বোলিং গড় এবং ৭.৯৫ এর किफायती ইকোনমি রেটে মোট ২৮টি উইকেট শিকার করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের সামগ্রিক পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় যে, ভুবনেশ্বর কুমার ১২১টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৫.১১ গড় এবং ৫.০৮ ইকোনমি রেটে মোট ১৪১টি উইকেট তুলে নিয়েছেন, যার সেরা বোলিং ফিগার ৪২ রান দিয়ে ৫ উইকেট। সব ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর নামের পাশে রয়েছে মোট ২২৯টি ম্যাচে সংগৃহীত ২৯৪টি উইকেট।

কেবল ভুবনেশ্বর কুমারকে দলে ফেরানোর সওয়াল করাই নয়, পাশাপাশি ২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে নিজের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী স্কোয়াডও সাজিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর বেছে নেওয়া এই আদর্শ দলে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির মতো বিশ্বমানের অভিজ্ঞ ব্যাটারদের পাশাপাশি মিডল অর্ডারে শ্রেয়স আইয়ার, কেএল রাহুল, বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমন গিল, অলরাউন্ডার অক্ষর পাটিল, হার্দিক পান্ডিয়া এবং প্রধান পেসার জসপ্রীত বুমরাহর মতো পরীক্ষিত ম্যাচ উইনারদের রাখা হয়েছে। এছাড়া তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে অশ্বিন তাঁর দলে জায়গা দিয়েছেন উদীয়মান পেসার হর্ষিত রানাকে (যাঁর বাড়তি উচ্চতা, পিচে অতিরিক্ত বাউন্স আদায় করার ক্ষমতা, গতি এবং লোয়ার অর্ডারে কার্যকরী ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দারুণ কাজে লাগতে পারে) এবং নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার-ব্যাটার ঈশান কিষাণকে। দলের মূল স্পিন আক্রমণ সামলানোর জন্য অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার অশ্বিন একচ্ছত্রভাবে ভরসা রেখেছেন কুলদীপ যাদবের ওপর। অন্যদিকে, পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে ভুবনেশ্বরের সঙ্গে প্রধান দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন বর্তমান যুগের সেরা পেসার জসপ্রীত বুমরাহ এবং গতিময় পেসার মোহাম্মদ সিরাজকে। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞ ও তরুণ তুর্কিদের এই সুষম মিশ্রণ ভারতীয় ক্রিকেট দলকে আগামী বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।