তোলাবাজির বিস্ফোরক অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের ঠিকানায় হানা পুলিশের!

তোলাবাজির একটি গুরুতর মামলায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের ঠিকানায় এসে পৌঁছাল পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে যে, ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প পরিচালনার সময় এক রিসর্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে প্রায় কুড়ি থেকে বাইশ লক্ষ টাকা তোলা হিসেবে আদায় করা হয়েছিল। এমনকি ওই ব্যবসায়ীর রিসর্টে একাধিক বিলাসবহুল রুম দীর্ঘক্ষণ দখল করে রাখা সত্ত্বেও তার বিপরীতে কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে একদল পুলিশ আধিকারিক আচমকাই সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের বাসভবনের সামনে গিয়ে উপস্থিত হন। দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ মিনিট বাড়ির দরজার সামনে অপেক্ষার পর অবশেষে সুমিত রায়ের মা দরজা খুলে বাইরে আসেন এবং পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর হাতে আইনি নোটিস তুলে দেন। তবে এই হাই-প্রোফাইল মামলার জেরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে গিয়েই পুরোপুরি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন অভিযুক্তের মা। সাংবাদিকদের বিভিন্ন তির্যক ও সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি অত্যন্ত চড়া গলায় ক্ষোভ উগরে দেন।
সাংবাদিকরা যখন তাঁকে প্রশ্ন করেন যে সুমিত রায় বর্তমানে কোথায় আছেন, তখন অত্যন্ত চটজলদি এবং বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন যে তাঁর ছেলে মাটির তলায় পোঁতা রয়েছে। সুমিত রায়ের মায়ের এই রহস্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে তাঁর ছেলে কোথায় লুকিয়ে আছে বা কোথায় গেছে, সে বিষয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো ধারণাই নেই।
যখন সাংবাদিকদের তরফ থেকে ফের প্রশ্ন করা হয় যে তবে কেন তাঁর ছেলে আকস্মিক পালিয়ে গেল, তখন তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি এবিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তিনি নিজেই চান খুব দ্রুত এই ঘটনার সমস্ত সত্যতা যেন জনসাধারণের সামনে উন্মোচিত হয়। এর পরেও সুমিতের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি অসংলগ্ন উত্তর দিয়ে দাবি করেন যে তাঁর ছেলে কখনোই এমন অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আর্থিক দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ট মহলের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি নোটিস জারি হওয়ার ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলিও বর্তমান প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ শাণাতে শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, এই মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সমস্ত নথিপত্র এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপযুক্ত সময়ে সমন পাঠানো হবে। সব মিলিয়ে, নিউ আলিপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রশাসনিক অন্দরে এবং রাজনৈতিক বৃত্তে চরম উত্তেজনা ও শোরগোল অব্যাহত রয়েছে।