সরকারি বাস চালকের অবসরের পর বাড়িতে মিলল গুপ্তধন! আলমারি খুলতেই চোখ কপালে পুলিশের!

অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি বাস চালকের সাধারণ জীবনযাত্রার অন্তরালে থাকা বিপুল ধনসম্পদের সন্ধান মিলেছে, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন তদন্তকারী গোয়েন্দা ও পুলিশ আধিকারিকরা। সারাজীবন সরকারি বাস চালিয়ে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রতি মাসে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া কোনো সাধারণ ব্যক্তির পক্ষে আলমারিতে থরে থরে কোটি কোটি নগদ টাকা, সোনার বাট ও দামি সোনার বিস্কুট জমিয়ে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে চলা এই কালো টাকার পাহাড় এবং সোনা আসলে রাজ্যের বিভিন্ন পাথর খাদান থেকে অবৈধভাবে আদায় হওয়া সরকারি রাজস্বের অংশ। ধাপে ধাপে সংঘটিত এই সুসংগঠিত দুর্নীতির মাধ্যমে মূলত সরকারি কোষাগারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্নীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চল, যেখানে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোটর ভেহিক্যেলস-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট অবস্থিত। পাথর খাদান থেকে উত্তোলিত পাথরবোঝাই ট্রাকগুলি নির্দিষ্ট গন্তব্যে রওনা দেওয়ার আগে এই চেকপোস্টে তাদের মোট ওজন পরীক্ষা করানোর নিয়ম রয়েছে। ট্রাকগুলিতে অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত পাথর বোঝাই করে ওভারলোডিং করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই তল্লাশি কেন্দ্রের প্রধান কাজ। আর ঠিক এই জায়গাতেই একটি সুচতুর কারচুপির মাধ্যমে গোটা গোলমাল পাকানো হতো বলে অভিযোগ। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত ওজনযুক্ত পাথরবোঝাই ট্রাকগুলি এই চেকপোস্ট ও আশেপাশের টোল প্লাকাগুলি সাফল্যের সঙ্গে পার হয়ে বিভিন্ন প্রান্তে চলে যেত। इसके বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অবৈধভাবে অতিরিক্ত ঘুষ বা টাকা লেনদেন করা হতো, যার মাধ্যমেই এই অসাধু চক্র কোটি কোটি টাকার কালো সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে যে, অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস জমানার একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই চেকপোস্ট এবং সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে প্রতিদিন যেখানে সরকারের ঘরে নামমাত্র প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা রাজস্ব জমা পড়ত, পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতির নাটকীয় বদল ঘটে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের সেখান থেকে অপসারণ করার পরই আয়ের চিত্রে এক অবিশ্বাস্য ও অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। দেখা যায় যে, প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ রাতারাতি লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে এই সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল, যা খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকেও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়েছিল।

বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ও প্রশাসনিক শোরগোল শুরু হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর এই আলমারি কেলেঙ্কারির নেপথ্যে ঠিক কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল, তা খুঁজে বের করতে এখন তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা এই অবৈধ সোনার পাহাড় ও টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল, তাদের সঠিক পরিচয় উন্মোচন করতে এবং দুর্নীতির শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা জানতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।