“হাতখরচ ছিল মাত্র ৩৫০ টাকা!”-অভাবকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে পদক জিতলেন হরজিন্দর

কলেজের হোস্টেলে যাওয়া-আসার ভাড়া ছিল মাত্র ৩৫০ টাকা। আর পুরো মাসের হাতখরচের জন্য বাবা হাতে তুলে দিতেন অতিরিক্ত আরও ৩৫০ টাকা। চরম আর্থিক অনটন আর অভাবের মধ্য দিয়েই নিজের স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে সেই লড়াকু মানসিকতারই যোগ্য জবাব মিলল আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে। গ্লাসগোয় আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন (Weightlifting) বিভাগে রুপোর পদক জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন ২৯ বছর বয়সি হরজিন্দর কৌর।
২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন তিনি। চার বছরের ব্যবধানে এবার নিজের পদকের রং বদলে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার নাভা এলাকার এই কন্যা।
বাবার ৩৫০ টাকার হাতখরচ থেকে গ্লাসগোয় দেশের প্রতিনিধিত্ব
পাঞ্জাবের অতি সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া হরজিন্দরের পথ চলা মোটেই মসৃণ ছিল না। শ্রী আনন্দপুর সাহিবের কলেজে পড়ার সময় থেকে অনুশীলনের সমস্ত খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হতো পরিবারকে।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে হরজিন্দর জানান, “নাভা থেকে শ্রী আনন্দপুর সাহিবের হোস্টেলে যাতায়াতের জন্য বাবা ৩৫০ টাকা দিতেন। আর হাতখরচ হিসেবে দিতেন আরও ৩৫০ টাকা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দেখে এর বেশি টাকা চাইতে আমার লজ্জা লাগত।” পরিবারের অগাধ বিশ্বাস আর বাবার সীমাহীন ত্যাগই আজ তাঁকে এই উচ্চতায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
২২৭ কেজি ওজন তুলে নতুন ইতিহাস, পদক উৎসর্গ পরিবারকে
মঙ্গলবার মহিলাদের ৬৯ কেজি ক্যাটাগরিতে স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ২২৭ কেজি (১০১ কেজি + ১২৬ কেজি) ওজন তোলেন হরজিন্দর কৌর। এই অনন্য পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই তিনি নিশ্চিত করেন ভারতের জন্য রুপোর পদক।
ঐতিহাসিক পদক জয়ের পর আবেগে ভেসে হরজিন্দর বলেন, “দেশের হয়ে রুপো জিততে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই সাফল্য আমি আমার পরিবারকে উৎসর্গ করছি। ইন্ডিয়ান ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন ও সরকারের সহযোগিতা ছাড়া গ্লাসগোয় এসে লড়াই করা সম্ভব ছিল না।”
বার্মিংহামে ব্রোঞ্জ, গ্লাসগোয় রুপো! এবার চোখ ২০৩০-এর সোনায়
২০২২-এ ব্রোঞ্জ জয়ের পর থেকেই হরজিন্দরের একমাত্র জেদ ছিল পদকের রং বদলানোর। এবার গ্লাসগোয় রুপো জিতে সেই কথা রেখেছেন তিনি। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না ভারতের এই তারকা অ্যাথলিট।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর পরবর্তী লক্ষ্যের কথা জানান। হরজিন্দরের স্পষ্ট বক্তব্য, “এ বার ব্রোঞ্জ থেকে রুপো জিতেছি। আমার পরবর্তী লক্ষ্য ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস। এবার নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সোনা জেতার লড়াইয়ে নামব।”