ময়নাতদন্ত ছাড়াই দেহ দাহ করার চাঞ্চল্যকর চক্রান্ত! কোন অপরাধে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা সুব্রত দত্ত?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে এক নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি গ্রেফতার করা হলো বিধানসভা নির্বাচনে ওন্দা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপ্রার্থী হওয়া দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুব্রত দত্তকে। পাত্রসায়ের থানার পুলিশের হাতে গতকাল গভীর রাতে ধরা পড়েন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এর আগে গত ১২ জুলাই এই একই চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সম্মানীয় সভাপতি পূরবী মল্লিক দত্তকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। মূলত নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনার পর তথ্যপ্রমাণ সুকৌশলে লোপাট করার অভিযোগ এবং মৃতার পরিবারকে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে জোরপূর্বক বাধা দেওয়ার গুরুতর অপরাধেই এই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া বিস্তারিত তথ্যে জানা গিয়েছে যে, চলতি বছরের গত ৩০ মার্চ পাত্রসায়ের থানা এলাকার মধ্যে এক নাবালিকার অত্যন্ত রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু ঘটে। ওই নৃশংস ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছিল পাত্রসায়েরের স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা রোহিত মল্লিক এবং তাঁর মা রুম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে যে, যখন মৃতার অসহায় পরিবার বিচার চাইতে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিল, ঠিক সেই সময় তৎকালীন তৃণমূল জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী পূরবী মল্লিক দত্ত নিজেদের রাজনৈতিক পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই অভিযোগে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার সমস্ত প্রমাণ চিরতরে ধামাচাপা দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে মৃতদেহের কোনো ধরনের আইনগত ময়নাতদন্ত না করিয়েই তাড়াহুড়ো করে তা দাহ করে দেওয়া হয় বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

পরবর্তীকালে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিস্থিতির বদল ঘটতেই গত ১১ জুলাই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মৃতার পরিবার পাত্রসায়ের থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান অভিযুক্ত রোহিত মল্লিক ও রুম্পা মল্লিককে গ্রেপ্তার করে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, ধৃতদের দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই এই হত্যাকাণ্ডে সুব্রত দত্ত এবং পূরবী মল্লিক দত্তের প্রত্যক্ষ যোগসাজসের জোরালো সূত্র হাতে আসে। সেই জোরালো তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ প্রথমে গত ১২ জুলাই স্ত্রী পূরবী মল্লিক দত্তকে এবং পরবর্তীতে গতকাল রাতে খোদ প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত দত্তকে জালে তোলে।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুলিশি নজর এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন সুব্রত দত্ত। তবে গতকাল রাতে গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে নিখুঁত খবর আসে যে, নিজের অসুস্থ বাবাকে দেখতে গোপনে পাত্রসায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন পলাতক প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি। সেই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া না করে পুলিশ দ্রুত সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৃত এই সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটে সরাসরি সাহায্য করা, মৃতার দরিদ্র পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ করতে বাধা দেওয়া এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কঠোর ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে আইনানুগ তদন্ত শুরু করেছে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ।