নকশাল যুগের অন্তিম সূর্য অস্ত গেল! ১ কোটির মাথার দামওয়ালা মাওবাদী তাত্ত্বিক মিসির বেসরাকে জালে পুরল পুলিশ!

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণা করা “ভারত নকশালমুক্ত” স্লোগান কি তবে এবার সত্যি হতে চলেছে? সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য এবং মোস্ট ওয়ান্টেড তাত্ত্বিক নেতা মিসির বেসরা ওরফে ভাস্কর। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকের নকশাল আন্দোলনের ইতিহাসে এই ঘটনাকে অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত এক দশক ধরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট কৌশলগত নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অভিযানের ফলেই মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একের পর এক ধরা পড়েছে বা খতম হয়েছে। এর আগে পলিটব্যুরোর আরেক সদস্য তেলেঙ্গানায় আত্মসমর্পণ করলেও মিসির একা হাতে সংগঠন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, ঝাড়খণ্ডের অরণ্য থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে মঙ্গলবার রাতে পাকড়াও করে।
ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের ভূমিপুত্র মিসির কলেজ জীবন থেকেই মহাজনবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে মাওবাদী দলে ভিড়ে যান এবং সর্বক্ষণের কর্মী হয়ে ওঠেন। তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং অস্ত্রচালনায় সমান পারদর্শী হওয়ার কারণে তিনি দ্রুত দলের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছে যান। ২০০৭ সালে বিহারে প্রথমবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও ২০০৯ সালে লখিসরাই আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় এক দুঃসাহসিক অপারেশনের মাধ্যমে মাওবাদীরা তাঁকে প্রিজন ভ্যান থেকে ছিনতাই করে জঙ্গল সাফারি করায়। কারাগারে বসেই সেই পালানোর নীল নকশা তৈরি করেছিলেন তিনি নিজেই, যা ‘অপারেশন লখিসরাই কোর্ট’ নামে পরিচিত। এরপর থেকেই তিনি ছিলেন একেবারে অধরা এবং তাঁর মাথার ওপর ধার্য হয়েছিল ১ কোটি টাকার বিশাল পুরস্কার মূল্য। সাম্প্রতিক সময়ে দেবুজির আত্মসমর্পণের পর দলের ভিন্ন লাইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকেই বিবৃতি জারি করে নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছিলেন এই প্রবীণ মাওবাদী নেতা। অবশেষে গোয়েন্দাদের নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে সেই রহস্যের জাল ছিঁড়ে পুলিশের হাতে এলেন নকশাল আন্দোলনের এই শেষ জীবিত তাত্ত্বিক স্তম্ভ।