ওড়িশা-ছত্তীসগঢ়ের দিকে সরছে সিস্টেম, আগামী কয়েকদিন রাজ্যে কেমন থাকবে বৃষ্টি?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি অবশেষে কিছুটা শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে তা উত্তর ওড়িশার অভ্যন্তরীণ এলাকা এবং সংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও উত্তর ছত্তীসগঢ়ের ওপরে অবস্থান করছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিস্টেমটি দুর্বল হলেও আজ বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলেও, আজ থেকে উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট ফের বাড়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নিম্নচাপের বর্তমান অবস্থা ও মৎস্যজীবীদের সতর্কতা

মৌসম ভবন (IMD) জানিয়েছে, উত্তর ওড়িশা সংলগ্ন এলাকায় থাকা গভীর নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টায় ঘণ্টায় ৭ কিমি বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে।

  • বর্তমান অবস্থান: বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) ভোরে এটি ওড়িশার ঝারসুগুড়া থেকে মাত্র ১০ কিমি পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ওড়িশা ও ছত্তীসগঢ় অতিক্রম করবে।

  • মৌসুমী অক্ষরেখা: বর্তমানে পিলানি, হামিরপুর, ডালটনগঞ্জ এবং নিম্নচাপের কেন্দ্র হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

  • মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা: সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কায় আগামী ২৪ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পরিস্থিতি

দক্ষিণবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির দাপট থমকে গেলেও আজ সব জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।

  • কোন কোন জেলায় বৃষ্টি বেশি? বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।

  • ঝোড়ো হাওয়া: উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বড় কোনো ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তোড়জোর: জারি হলুদ সতর্কতা

আজ বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বর্ষার সক্রিয়তা বাড়বে।

কলকাতার ওয়েদার আপডেট

তিলোত্তমা কলকাতায় আপাতত ভারী বা অতি ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। স্থানীয়ভাবে দু-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

  • তাপমাত্রা: শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের থেকে ০.৭°C বেশি) এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে।

  • অস্বস্তি ও আর্দ্রতা: বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৬% থেকে ৯৪%-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করায় বৃষ্টি কম হতেই শহর জুড়ে নতুন করে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বাড়তে শুরু করেছে।

বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে কোনো শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়নি। তাই নিম্নচাপের টানে আসা জলীয় বাষ্পের প্রভাবেই রাজ্যজুড়ে মেঘলা আকাশ ও দফায় দফায় বৃষ্টি বজায় থাকবে।