স্বেচ্ছাবসর নেওয়া ড্রাইভারের ঘরে মিলল টাকার বস্তা! সিআইডি হানা দিতেই লুকিয়ে থাকা চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

রাজ্যজুড়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির খবরের মাঝেই এবার বীরভূম জেলা থেকে সামনে এল এক বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য। একসময়ে যিনি সরকারি বাস চালিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতেন, পরবর্তীতে তিনি স্বেচ্ছাবসরও গ্রহণ করেন—সেই সাধারণ বাসচালকের বিশাল আলিশান বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং একটি অত্যাধুনিক টাকা গোনার মেশিন। বুধবার সকালেই বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানার অধীনস্থ ডেউচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ওই প্রাক্তন বাসচালকের বাড়িতে ঝটিকা তল্লাশি অভিযান চালায় জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী। এই আকস্মিক পুলিশি হানার পরেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে।
বীরভূম জেলা পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, স্বেচ্ছাবসর নেওয়া ওই বিতর্কিত সরকারি বাসচালকের নাম মিনার মণ্ডল। তাঁর বাড়িতে বিশাল পরিমাণ নগদ টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই গোপন সূত্রে খবর ছিল তদন্তকারীদের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এদিন ভোরে পুলিশ ও সিআইডি (CID)-র যৌথ দল অতর্কিত হানা দেয়। জানা গিয়েছে, এই তল্লাশি অভিযানে প্রায় ৬টি গাড়িতে করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মিনার মণ্ডলের বাড়ি ঘিরে ফেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে তল্লাশির সময় ওই বাড়ি থেকে একাধিক ক্যাশ কাউন্টিং বা টাকা গোনার মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঠিক কত কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক বা সরকারি তথ্য প্রকাশ করা না হলেও, তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী এই টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, এই মিনার মণ্ডল হলেন স্থানীয় এলাকার এক বিতর্কিত প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। গত দুই মাস ধরে ভোট পরবর্তী হিংসা, অবৈধ পাথর খাদান পরিচালনা এবং একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এই টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে মহম্মদ বাজার থানায় একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক গুরুতর মামলার জেরে ওই পাথর ব্যবসায়ী বর্তমানে একপ্রকার পলাতক জীবন কাটাচ্ছেন। আর সেই পলাতক ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বাড়িতেই এই বিশাল অঙ্কের টাকার পাহাড় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা ডেউচা এলাকা পুরুষ ও মহিলা পুলিশ বাহিনী দিয়ে সম্পূর্ণ ঘিরে রাখা হয়েছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বাজোপ্ত হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ জানতে ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।