আমেরিকার নতুন চালে বড় বিপাকে ভারত! রাশিয়ার তেল কেনায় কি ১০০% শুল্ক চাপাতে চলেছেন ট্রাম্প?

আমেরিকার শুল্কের কূটনীতিতে এবার তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা, যার জেরে রাশিয়ার উপর আনা একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিলকে কেন্দ্র করে ভারতের উপর বড় ধরনের শুল্কের খাঁড়া ঝুলতে শুরু করেছে। মার্কিন সেনেটে সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের উপর, কারণ এই বিল আইনে পরিণত হলে ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলির উপর একশো শতাংশ পর্যন্ত ভারী শুল্ক আরোপের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও অনেক দূর গড়ায় কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মার্কিন সেনেটে পাশ হওয়া এই বিলটির মূল লক্ষ্য হল ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া। প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের তৈরি এই বিলটিতে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলির উপর একশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই বিলটি সেনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে পাশ করানো হয়। ৮৬-১২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পাশ হওয়া এই বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর কঠোর শুল্ক চাপানোর নজিরবিহীন ক্ষমতা দেওয়া হবে। এই সম্ভাব্য তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারত ও চিন-সহ বেশ কয়েকটি প্রধান দেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি এমন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে সামনে এসেছে যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। অতীতেও রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে মার্কিন প্রশাসনের রোষানলে পড়েছিল নয়াদিল্লি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় শোধনাগারগুলি বাধ্য হয়ে রাশিয়া থেকে বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও ভারতের তেল আমদানির সমালোচনা করে অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্রতা বাড়ায় আমেরিকা কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছিল, তবুও এই নতুন আইন কার্যকর হলে ট্রাম্পের হাতে শুল্ক ব্যবহারের ক্ষমতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।