অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে বড় ধাক্কা! কাদের অ্যাকাউন্টে এবার আর ঢুকবে না ৩০০০ টাকা?

হাতে মাত্র আর মোটে দু-দিন বাকি। ক্যালেন্ডার বদলেই শুরু হতে চলেছে নতুন অগাস্ট মাস। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করা স্বাভাবিক। অনেকেই হয়তো মনে মনে ভাবছেন যে, চলতি অগাস্ট মাসেও রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় আর্থিক সহায়তামূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর মাধ্যমে তিন হাজার টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তো? কিন্তু খোদ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী মাস অর্থাৎ অগাস্টে অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই হয়তো এই ভাতার টাকা আর ঢুকবে না। কারণ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই অত্যন্ত কঠোরভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, কোন কোন বিশেষ ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠিতে না টিকলে এবার থেকে আর এই আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে না।

সম্প্রতি নবান্ন থেকে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একেবারে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, আমাদের রাজ্যে এমন অনেক উপভোক্তা রয়েছেন যাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় এক লক্ষ টাকার গণ্ডি অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও এমন বহু সচ্ছল মহিলা রয়েছেন যাঁদের এই আর্থিক সাহায্যের বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই, অথচ তাঁরাও নিয়মিতভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই টাকা এতদিন ধরে তুলে আসছেন। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই আগামী অগাস্ট মাস থেকে অত্যন্ত কঠোরভাবে তথ্য যাচাই বা ঝাড়াই-বাছাই করে তবেই এই আর্থিক অনুদান প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অতীতে তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, অগাস্ট মাস থেকে রাজ্যের সমস্ত কর্মরত আশা ও অঙ্গনওয়ড়ি কর্মীরা আর এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না। শুধু তাই নয়, সরকারের এই জনমুখী প্রকল্প যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে খোদ বিধায়কদেরও সরাসরি মাঠে নেমে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করার এক বিশেষ নির্দেশ বা বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে, আগামী মাস থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা বন্টনের ক্ষেত্রে একটি বড়সড় ও কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া কার্যকর হতে চলেছে।

তাহলে কি অগাস্ট মাসে আদৌ কারোর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে? প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বর্তমানে তথ্য ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণের কাজ অত্যন্ত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। এই যাচাইয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হলেই একমাত্র যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে কাঙ্ক্ষিত সেই ৩,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য। এক্ষেত্রে কিছুটা বেশি সময় লাগার মূল কারণ হলো সমস্ত অফিশিয়াল ডকুমেন্টস নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে যারা সমস্ত নির্ধারিত শর্ত সফলভাবে পূরণ করবেন, তাঁরা প্রত্যেকেই যথারীতি ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, ভেরিফিকেশনের এই কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে এবং যোগ্য মহিলারা নিয়মমতোই অগাস্ট মাসে টাকা হাতে পেয়ে যাবেন। সরকারের তরফ থেকে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমেই এই সমস্ত টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

যাঁরা প্রকৃতপক্ষেই এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য, তাঁরা প্রত্যেকেই যথারীতি এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। এমনকি, যাঁরা কোনো বিশেষ কারণে ট্রাইব্যুনালের জন্য আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী যতদিন না সেই আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বলে ঘোষণা করা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই মাসিক ভাতা নির্বিঘ্নে চালু থাকবে। পাশাপাশি, যাঁরা পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে আমাদের এই রাজ্যে এসে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সিএএ (CAA)-র নিয়মানুযায়ী ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সিএএ সংক্রান্ত বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ ভাতা আগের মতোই চালু রাখা হবে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।