গর্ভাবস্থায় চরম চুলকানি ও জ্বালাপোড়া? সতর্ক হোন, হতে পারে এই ৩ বিপজ্জনক সংক্রমণ!

হেলথ ডেস্ক: গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্যের কারণে শারীরিক নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে শরীরে বা গোপনাঙ্গে অতিরিক্ত চুলকানি ও জ্বালাপোড়াকে সাধারণ সমস্যা মনে করে ভুল করলে তা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে অনাকাক্ষিত চুলকানি ও জ্বালাপোড়া মূলত কয়েকটি বিশেষ সংক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতার লক্ষণ।

গর্ভাবস্থায় কোন কোন সংক্রমণের কারণে মূলত এই সমস্যাগুলো তৈরি হয় এবং কখন সতর্ক হতে হবে, জেনে নিন বিস্তারিত।

১. ইস্ট ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ (Yeast Infection)

গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের ফলে যোনিপথের প্রাকৃতিক পিএইচ (pH) ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, যা ‘ক্যান্ডিডা’ (Candida) নামক ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

  • লক্ষণ: যোনিপথে তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লালভাব এবং পনিরের মতো ঘন সাদা স্রাব হওয়া।

  • বিপদ: প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করা হলে প্রসবের সময় শিশুর সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

২. ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস (Bacterial Vaginosis – BV)

এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে এ সমস্যা দেখা দেয়।

  • লক্ষণ: হালকা চুলকানির পাশাপাশি দুর্গন্ধযুক্ত এবং ধূসর বা সাদাটে পানির মতো পাতলা স্রাব নিঃসরণ।

  • বিপদ: সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে সময়ের আগেই সন্তান প্রসব (Premature Delivery) বা কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

৩. গর্ভাবস্থার ইন্ট্রাহেপ্যাটিক কোলেস্টেসিস (ICP)

পুরো শরীরে বা বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলায় মারাত্মক চুলকানি থাকলে এটি কোনো সাধারণ ত্বকের সংক্রমণ নাও হতে পারে। এটি যকৃৎ বা লিভারের জটিলতা ‘কোলেস্টেসিস’ (Cholestasis of Pregnancy)-এর লক্ষণ।

  • লক্ষণ: কোনো ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ ছাড়াই শুধু তীব্র চুলকানি (বিশেষ করে রাতে বাড়ে), প্রস্রাব গাঢ় হওয়া এবং চোখ বা ত্বক কিছুটা হলুদ হওয়া।

  • বিপদ: এটি ভ্রূণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে গর্ভপাত বা প্রাক-মেচিউর প্রসবের প্রধান কারণ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কী করবেন?

  • চিকিৎসকের পরামর্শ: কোনো ধরনের ক্রিম, অ্যান্টিসেপটিক বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহারের আগে দ্রুত গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

  • পোশাক নির্বাচন: ঢিলেঢালা ও সুতির অন্তর্বাস ও পোশাক ব্যবহার করুন, যেন আর্দ্রতা না জমতে পারে।

  • পরিচ্ছন্নতা: কঠোর কেমিক্যাল বা সুগন্ধযুক্ত সাবান/ওয়াশ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। স্থানটি শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখুন।

সম্পাদকের শেষ কথা

গর্ভাবস্থায় শরীর কোনো অস্বস্তির সিগন্যাল দিলে তা অবহেলা করা একদম উচিত নয়। যেকোনো ধরনের সংক্রমণ শনাক্তে দ্রুত রক্তের পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ মাতৃত্বের প্রথম শর্ত।