জন্তর মন্তরে হিংসার আগুন! নিট প্রতিবাদের নামে পুলিশ পেটানোর ঘটনায় সোজা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পরিবারগুলি

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে চরম অশান্তি ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। সেই বিক্ষোভে শুধুমাত্র সাধারণ আন্দোলনকারীরাই নন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাও। এবার খাকি পোশাকের ওপর চলা সেই নৃশংস সহিংসতার বিরুদ্ধে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন আহত পুলিশ কর্মীদের পরিবারবর্গ। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পিটিশনটি ঘিরে বর্তমানে গোটা দেশের প্রশাসনিক ও আইনি মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জন্তর মন্তরের ওই বিক্ষোভে কর্তব্যরত অবস্থায় চরম হিংসার শিকার হয়েছিলেন এসিপি কৈলাশ সিং বিষ্ট, এএসআই সন্দীপ, কনস্টেবল ধীরাজ এবং এএসআই হেমেন্দ্র রাঠি। তাঁদের অসহায় পরিবারবর্গ একত্রিত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন ডিউটি চলাকালীন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য আরও কঠোর, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়। আবেদনে জোরালোভাবে দাবি তোলা হয়েছে যে, সাধারণ নাগরিকদের মতো পুলিশ কর্মকর্তাদেরও জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের ক্ষেত্রে যেন সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং যারা ঠান্ডা মাথায় খাকি পোশাকধারীদের ওপর শারীরিক হামলা চালায় বা সহিংসতার প্ররোচনা দেয়, আদালত যেন অবিলম্বে তাদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে দেশের রক্ষকরাই আজ যেভাবে উন্মত্ত জনতার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আবেদনকারীরা। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন যে, সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের পরিধি ও অধিকার যেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে কার্যকর থাকে। পাশাপাশি, বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে সমাজবিরোধী উপাদানগুলি কীভাবে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সহিংসতা ছড়ায়, তা কঠোর হাতে দমনের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই চাঞ্চল্যকর আবেদনটি এমন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাখিল করা হয়েছে, যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতও জনসমাবেশ ও প্রতিবাদের সময় পুলিশের ভূমিকা এবং কথিত বাড়াবাড়ি সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই প্রসঙ্গেই সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে বলেছে যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো দেশের প্রতিটি নাগরিকের একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার এবং তা কোনোভাবেই কেড়ে নেওয়া যায় না। আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে যে, সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত প্রতিবাদের অধিকারের ভিত্তিতে সবসময় পুলিশি লাঠিচার্জকে অযৌক্তিকভাবে ন্যায্য বলে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তবে একই সঙ্গে আদালত এও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পরিচালনার জন্য একটি অভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী বা এসওপি তৈরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। দেশের শীর্ষ আদালতের এই দ্বিমুখী অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার যেমন পবিত্র, তেমনই আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসনের সুরক্ষাও সমানভাবে জরুরি।