শ্রাবণ মাসে কেন সবুজ চুড়ি পরেন মহিলারা? হরিয়ালি তীজের এই বিশেষ পূজার রহস্য জানলে চমকে যাবেন!

বিবাহিত মহিলাদের জীবনে ‘হরিয়ালি তীজ’ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, পবিত্র শ্রাবণ মাসে পালিত এই উৎসবটি দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর সুদীর্ঘ প্রেম ও পুনর্মিলনের পবিত্র স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিশেষ দিনে মহিলারা তাঁদের স্বামী তথা জীবনসঙ্গীর দীর্ঘায়ু, সুখী দাম্পত্য জীবন এবং পরিবারের সার্বিক মঙ্গল কামনায় কঠোর উপবাস পালন করেন। বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান ও নিষ্ঠার সঙ্গে ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর পূজা সম্পন্ন করা হয়। পূজার সময় মহিলারা দেবী পার্বতীকে ষোলোটি সুহাগ সামগ্রী নিবেদন করেন। এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো কেন হরিয়ালি তীজে দেবীকে এই সমস্ত সামগ্রী অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

২০২৬ সালের হরিয়ালি তীজ কবে পালিত হবে?
দৃক পঞ্চাঙ্গের হিসাব অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি আগামী ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যা ৬:৪৬ মিনিটে শুরু হবে এবং ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ তারিখে বিকেল ৫:২৮ মিনিটে এই তিথির সমাপ্তি ঘটবে। উদয় তিথিকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী ১৫ই আগস্ট, ২০২৬, শনিবার অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে হরিয়ালি তীজের উপবাস ও মূল পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

হরিয়ালি তীজে কেন সবুজ চুড়ি পরা হয়?
সনাতন ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে চুড়িকে চিরকালই দাম্পত্য সুখ, সৌভাগ্য এবং ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশেষ করে সবুজ রঙের চুড়ির সঙ্গে শ্রাবণ মাস এবং হরিয়ালি তীজ উৎসবের এক আত্মিক ও গভীর সংযোগ রয়েছে। শ্রাবণ মাসে চারপাশ প্রকৃতি সবুজে সুজলা ও শস্যশ্যামলা হয়ে ওঠে, আর তাই এই বর্ষার মৌসুমে সবুজ রঙকে অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়। পূজার থালায় সবুজ চুড়ি রাখা বা দেবীকে তা নিবেদন করার অর্থ হলো বৈবাহিক জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধির সুদৃঢ় আগমন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী পার্বতীকে সবুজ চুড়ি অর্পণ করলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসা ও পারস্পরিক বন্ধন চিরস্থায়ী হয়।

মঙ্গলসূত্রের বিশেষ তাৎপর্য
হিন্দুধর্মে মঙ্গলসূত্রকে একজন বিবাহিত নারীর পরম সৌভাগ্য এবং দাম্পত্য জীবনের অন্যতম প্রধান পবিত্র প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। বিয়ের শুভ লগ্নে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর গলায় মঙ্গলসূত্র পরানোর এই প্রাচীন প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। হরিয়ালি তীজ পূজার সময় মঙ্গলসূত্র ধারণ ও দেবীকে নিবেদন করলে তা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্পর্ককে আরও বেশি মজবুত করে এবং স্বামীর দীর্ঘায়ু সুনিশ্চিত করে। মহিলারা পূজার সময় দেবীর চরণে মঙ্গলসূত্র নিবেদন করে তাঁর ঐশ্বরিক আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

সুহাগের উপকরণ নিবেদনের পৌরাণিক মাহাত্ম্য
পৌরাণিক শাস্ত্র ও কাহিনী অনুসারে, দেবাদিদেব মহাদেবকে পতিরূপে পাওয়ার জন্য সুদীর্ঘকাল কঠোর তপস্যা করেছিলেন মাতা পার্বতী। সেই তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে পত্নী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয় যে, হরিয়ালি তীজের দিনে দেবী পার্বতীর আরাধনা এবং তাঁকে সুহাগ সামগ্রী নিবেদন করলে নারীরা অখণ্ড সৌভাগ্য লাভ করেন। এমনকি অবিবাহিত যুবতীরাও মনের মতো বর পাওয়ার আশায় এই ব্রত পালন করেন। পূজার থালায় চুড়ি, মঙ্গলসূত্র, সিঁদুর, টিপ, মেহেদি, কাজল এবং চুনরি অত্যন্ত যত্নসহকারে রাখা হয়। পূজা শেষে এই সামগ্রীগুলি দেবীর আশীর্বাদ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।