শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় বিজেপির অন্দরেই বিদ্রোহ! হাই-প্রোফাইল নেত্রীর কন্যার বিস্ফোরক পোস্টে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

দেশজুড়ে চলা তীব্র আন্দোলন এবং প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাটকীয় ইস্তফার পরই শাসক দলের অন্দরে চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই ওড়িশার এক হাই-প্রোফাইল বিজেপি সাংসদের কন্যার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই তরুণীর স্পষ্ট দাবি, মন্ত্রীর পদত্যাগের পর তাঁর পোস্ট করা একটি সংবাদের স্ক্রিনশট জোর করে ডিলিট করানোর জন্য উপরমহল থেকে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনোভাবেই সেই চাপের কাছে মাথা নোয়াননি।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, যখন নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং দেশব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ঠিক তার পরেই ওড়িশার বিশিষ্ট বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারাঙ্গীর কন্যা অর্চিতা সারাঙ্গী তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাসংক্রান্ত খবরের শিরোনামের একটি ছবি নিজের স্টোরিতে শেয়ার করেন। এর সামান্য কিছু সময় পরেই তিনি আরও একটি নতুন পোস্ট করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন যে, তিনি কোনোমতেই ওই পোস্ট ডিলিট করবেন না।

সামাজিক মাধ্যমে অর্চিতা সরাসরি অভিযোগের সুরে লেখেন যে, ‘ডিপি’স পিএ’ (DP’s PA) নামক কোনো এক সূত্র থেকে তাঁর মাকে মেসেজ পাঠিয়ে আগের স্টোরিটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই বার্তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওই তরুণী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “দয়া করে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন না, আমি পোস্ট ডিলিট করব না। জয় জগন্নাথ! জয় হিন্দ!” এই ঘটনার আকস্মিকতায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায় এবং এর কিছুক্ষণ পরেই অর্চিতার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি হঠাৎই ডি-অ্যাক্টিভেট বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় সেই সন্দেহ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

এদিকে এই গোটা বিতর্ক যখন চরমে, তখন অর্চিতার মা তথা বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারাঙ্গী সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর গেয়ে সরাসরি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পক্ষেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, নৈতিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগ আসলে তাঁর সাহসিকতারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ। উল্লেখ্য, রাজনীতিতে পা রাখার আগে পেশায় সফল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অফিসার থাকা অপরাজিতা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভুবনেশ্বর আসন থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ে বিজু জনতা দলের (BJD) প্রার্থীকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানও ওড়িশার অন্যতম হেভিওয়েট বিজেপি নেতা এবং রাজ্যে দলের সাংগঠনিক বিজয়ে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রীর পদত্যাগের পর খাস দলেরই সাংসদকন্যার এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং চাপের মুখেও অনড় থাকার ঘোষণা গেরুয়া শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।