পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট শুরু হতেই চরম উত্তেজনা! রক্তাক্ত উপত্যকায় হিংসার ছায়া, বিরোধিতায় বয়কটের ডাক

পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরে (POK) সোমবার সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বহুচর্চিত ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আইনসভার ৫৩টি আসনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচিত ৪৫টি আসনে আজ ভোট নেওয়া হচ্ছে। তবে বিগত কয়েক মাস ধরে চলা তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ, রক্তপাত এবং সাধারণ মানুষের লাগাতার বিরোধিতার জেরে এই নির্বাচন কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে চরম সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সরাসরি নির্বাচিত ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ওই অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া উদ্বাস্তুদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই বিশেষ সংরক্ষণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একাধিক স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নির্বাচন পুরোপুরি বয়কটের ডাক দিয়েছে এবং জোরালো সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছে। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে গত দু’মাস ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে লাগাতার রাজনৈতিক হিংসায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ২৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১২ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আন্দোলন দমনে পাক সেনা ও পুলিশ মাত্রাতিরিক্ত দমনপীড়ন চালিয়েছে। ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ নামের একটি প্রভাবশালী সংগঠন এই ১২টি সংরক্ষিত আসনের অবসান চেয়ে আন্দোলন পরিচালনা করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তান হিউম্যান রাইটস কমিশন এবং রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ এই চরম অশান্তির জন্য বরাবরের মতো ভারতের দিকেই আঙুল তুলেছে পাকিস্তান প্রশাসন। তবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারত একমাত্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার ও সেই সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়েই আলোচনা করতে প্রস্তুত। অন্য কোনো বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো রকম দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। সম্প্রতি কারগিল দিবসের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও এই বিষয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পাশাপাশি, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অবৈধ দখলমুক্ত করে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
এদিকে চলমান এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহেরিক-ই ইনসাফ (PTI)। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারের প্রধান দুই শরিক দল—পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) অর্থাৎ PML-N এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP)—পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে। ভোটের দিন সকালে কোনো বড় ধরনের সহিংসতার খবর সরাসরি না মিললেও, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া প্রহরা এবং সাধারণ মানুষের তীব্র অসন্তোষের জেরে গোটা পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়েই চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।