টাকার বৃষ্টির লোভে সর্বস্বান্ত! উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচে চাঞ্চল্যকর তান্ত্রিক প্রতারণা ও ১৫ লক্ষ টাকার জেরে নৃশংস খুন

উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায় এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে স্থানীয় পুলিশ। জেলার নানপাড়া থানা এলাকার পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কুখ্যাত পাপ্পু ওরফে সমীর খানকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে অভিযুক্ত তার সহযোগীদের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে এই ষড়যন্ত্র করেছিল এবং অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় অপরাধ সংঘটিত করেছিল। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আসল রহস্য এবং রোমহর্ষক কাহিনী জানতে পুলিশ এখন এই মামলার বাকি পলাতক সন্দেহভাজনদের தீவிரভাবে সন্ধান চালাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, নানপাড়া শহরের বাসিন্দা অজয় ​​কুমার দ্বিবেদী গত ২৯শে জুন নিখোঁজ হওয়ার পর একটি নির্জন খালের পাড় থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন এবং হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে একাধিক বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। এরপর পুলিশি তদন্ত চলাকালে যে অবিশ্বাস্য ও শিহরণ জাগানো তথ্যগুলো একে একে সামনে আসে, তা দেখে খোদ তদন্তকারী অফিসাররাও রীতিমতো হতবাক হয়ে যান।

পুলিশি জেরায় ও তদন্তে জানা গেছে যে, প্রধান অভিযুক্ত পাপ্পু, যে সমীর খান নামেও পরিচিত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অজয় ​​কুমার দ্বিবেদীর সাথে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিল। এরপর সে অজয়কে বিভিন্ন তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান এবং ভুয়ো অলৌকিক ক্ষমতার লোভনীয় ভিডিও পাঠাতে শুরু করে। সে দাবি করে যে বিশেষ তান্ত্রিক ক্রিয়ার মাধ্যমে অলৌকিকভাবে আকাশ থেকে টাকার বৃষ্টি বর্ষণ করে সে অজয়কে রাতারাতি অত্যন্ত ধনী করে তুলবে। অজয় ​​কুমার অভিযুক্তের সেই নিখুঁত প্রতারণার জালে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন এবং অভিযুক্ত ধাপে ধাপে নানা বাহানায় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

যখন অজয় বুঝতে পারেন যে কোনো টাকা বা অলৌকিক ক্ষমতা আসছে না এবং তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, তখন তিনি নিজের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাপ্পু ওরফে সমীর খান সেই বিপুল পরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্যই অজয়কে চিরতরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করে। সে তার বিশ্বস্ত সহযোগীদের সঙ্গে মিলে অত্যন্ত সুকৌশলে অজয়কে ডেকে এনে হত্যা করে এবং নিজের আসল পরিচয় ও অপরাধ সম্পূর্ণ গোপন করার উদ্দেশ্যে তাঁর নিথর দেহটি একটি খালের তীরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

পুরো ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করে পুলিশ জানিয়েছে যে, ডিজিটাল প্রমাণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নিখুঁত পুলিশি তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই এই জটিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য সফলভাবে ভেদ করা সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্গাপ্রসাদ তিওয়ারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত মূল অভিযুক্তকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত তার বাকি সহযোগীদের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে জোরদার তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশ খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত প্রতিটি অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।