অবশেষে পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান! মোদী মন্ত্রিসভায় এক দশকে কোন মন্ত্রণালয়ে হলো সবচেয়ে বেশি রদবদল?

দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ ও নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার অনিয়মের জেরে গত ২৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি শেয়ার করে তাঁর এই পদত্যাগের ঘোষণা সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদী সরকারের গত ১২ বছরের কার্যকাল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী রদবদলের চিত্রটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কিছু মন্ত্রকে যেখানে ঘন ঘন নেতৃত্ব বদল হয়েছে, আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে শুরু থেকেই একই নেতৃত্ব বহাল রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (MIB)। ২০১৪ সাল থেকে এই মন্ত্রকটিতে মোট সাতবার মন্ত্রী পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথম দিকে প্রকাশ জাভাদেকর ও অরুণ জেটলি দায়িত্ব পালনের পর এম. ভেঙ্কাইয়া নাইডু, স্মৃতি ইরানি এবং রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর এই পদে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে প্রকাশ জাভাদেকর দ্বিতীয় দফায় ফিরে আসার পর অনুরাগ ঠাকুর এবং বর্তমানে ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে অশ্বিনী বৈষ্ণব এই দপ্তরের দায়িত্ব সফলভাবে সামলাচ্ছেন। একইভাবে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েও গত ১২ বছরে সাতজন ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বানন্দ সোনোয়াল থেকে শুরু করে জিতেন্দ্র সিং, বিজয় গোয়াল, রাজ্যবর্ধন এস. রাঠোর, কিরেন রিজিজু, অনুরাগ সিং ঠাকুর হয়ে বর্তমান সময়ে এই দপ্তরের হাল ধরেছেন মনসুখ মান্ডাভিয়া।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই হঠাৎ পদত্যাগের ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ঘন ঘন রদবদল হওয়া মন্ত্রকগুলির তালিকায় পাকাপাকিভাবে স্থান করে নিয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকটির দায়িত্বে ছিলেন স্মৃতি ইরানি, প্রকাশ জাভাদেকার, রমেশ পোখরিয়াল ‘নিশঙ্ক’ এবং সর্বশেষ ধর্মেন্দ্র প্রধান। এখন প্রহ্লাদ জোশীর অন্তর্ভুক্তি এই মন্ত্রকটিকে আরও বেশি পরিবর্তনশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বে কিছুটা স্থায়িত্ব থাকলেও ডঃ হর্ষ বর্ধন এবং জগৎ প্রকাশ নাড্ডার হাতবদল হয়ে দায়িত্বের রদবদল ঘটেছে পাঁচবার। পাশাপাশি, কৃষি মন্ত্রণালয়ে রাধা মোহন সিং, নরেন্দ্র সিং তোমর, অর্জুন মুন্ডা এবং বর্তমানে শিবরাজ সিং চৌহান দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর বিপরীতে, এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ও রয়েছে যেখানে গত ১২ বছরে পরিবর্তনের হার অত্যন্ত নগণ্য। উদাহরণস্বরূপ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় ২০১৪ সাল থেকে সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম মেয়াদের শুরু থেকেই এই মন্ত্রকের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে সামলে আসছেন নিতিন गडকরি (নীতিন গড়করি), যিনি বর্তমানে টানা তৃতীয়বারের মতো এই পদে বহাল আছেন। ঠিক একইভাবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) এবং কর্মী, জন অভিযোগ ও পেনশন বিভাগ (DoPT)-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিভাগগুলিতেও ২০১৪ সাল থেকেই ডঃ জিতেন্দ্র সিং নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও গত ১২ বছরে মাত্র দুজন মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজনাথ সিং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর, ২০১৯ সালের ৩১ মে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নেতৃত্বে রয়েছেন অমিত শাহ। একইভাবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও সুষমা স্বরাজের সফল মেয়াদের পর ২০১৯ সাল থেকে দক্ষতার সঙ্গে বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে চলেছেন এস. জয়শঙ্কর। সার্বিক এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তথ্য ও সম্প্রচার বা ক্রীড়ার মতো মন্ত্রকগুলিতে প্রতি দুই থেকে আড়াই বছরে নতুন মুখের আগমন ঘটলেও, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহনের মতো নীতিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলিতে শুরু থেকেই একনিষ্ঠ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।