‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’ প্রতিজ্ঞা কি তবে মিথ্যে? টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় তারকা জুটির সম্পর্কে ভাঙনের সুর!

প্রকাশ্যে একে অপরকে কথা দিয়েছিলেন সারাজীবন একসঙ্গে পথ চলার। আজও অনুরাগীদের মুখে মুখে ফেরে তাঁদের অভিনীত ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপ—‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’। কিন্তু বাস্তবের আঙিনায় এসে সেই চিরকালীন প্রতিজ্ঞা কি তবে ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে? টলিপাড়ার অন্দরে কান পাতলে ইদানীং এমনই এক তীব্র আশঙ্কার মেঘ উড়ে বেড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি ঝাঁ চকচকে তারকা খচিত অনুষ্ঠানের ঝলক এবং তারকা জুটির দূরত্বের দৃশ্য দেখে নেটপাড়া ও বিনোদন জগতের অন্দরে এখন তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে টলিপাড়ার সেই জনপ্রিয় জুটি একসঙ্গে তো এলেনই না, বরং পর্দার জনপ্রিয় নায়ক হাজির হলেন সম্পূর্ণ অন্য এক নায়িকার হাত ধরে! শুধু তাই নয়, গুঞ্জন উঠেছে যে গোটা অনুষ্ঠানজুড়েও তাঁরা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। এমনকি অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথেও নাকি তাঁরা দুজনে আলাদা আলাদা গাড়িতে গন্তব্যে ফিরে গিয়েছেন। টলিপাড়ার অন্দরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন জল্পনার অন্ত নেই।
গত এক বছরের ব্যবধানে সেলুলয়েডের পর্দায় পর পর দুটো ঘনিষ্ঠ ‘চুম্বন’ দৃশ্য উপহার দেওয়া নিয়েই নাকি এই জটিলতার সূত্রপাত। টলিপাড়ার ফিসফাস বলছে, এর আগেও এই তারকা জুটির সম্পর্কে বহুবার নানা কারণে মান-অভিমানের মেঘ জমেছে, কিন্তু তা দু’দিনের মধ্যেই অলৌকিকভাবে উধাও হয়ে গেছে এবং তাঁদের চারপাশ আবার ভালোবাসার আলোয় ঝলমল করে উঠেছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি নাকি সম্পূর্ণ আলাদা। পর্দার সেই বিশেষ ‘বিষাক্ত চুম্বন’-এর দৃশ্যই কি তবে তাঁদের প্রায় এক যুগের দীর্ঘ সম্পর্কে চিরতরে ইতি টানতে চলেছে? টালিউডের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে, আগের মতো সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে আর সহজে মিটমাট হচ্ছে না। নায়কের সাম্প্রতিক একটি চলচ্চিত্রের কাজ এবং সেখানে তাঁর করা সাহসী অভিনয়ই নাকি মূল কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্দার সেই তীব্র রসায়ন ও ঘনিষ্ঠতা নিজের চোখে দেখার পরই নাকি মারাত্মক অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়েছেন তাঁর বাস্তবের জীবন-নায়িকা।
আর সেই কারণেই সমস্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি এক অন্য রণকৌশল নেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি নীরবে বসে না থেকে অন্য এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একেবারে নিখুঁত ‘বার্বি ডল’ বা পরিপাটি সাজে এসে হাজির হন। ক্যামেরার ফ্ল্যাশের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর সাবলীল খুনসুটিতে মেতে ওঠার দৃশ্য দেখে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি কতটা নির্বিকার থাকার অভিনয় করছেন। অথচ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত। কারণ ঠিক এর আগের বছরেই এই একই নায়িকাও তো পর্দার খাতিরে নায়কের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ক্যামেরার সামনে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন! যদিও সেই ছবি মুক্তির ঠিক পরেই তিনি গণমাধ্যমের সামনে এক প্রকার ‘বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ’ বার্তা দিয়ে সাফ জানিয়েছিলেন যে, বাস্তবের জীবন-নায়ক তথা প্রেমিকের কথা মাথায় রেখেই তিনি আদতে পর্দায় এমন অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে চাননি। সেই সময় পরিচালক এসে তাঁকে বহুভাবে বুঝিয়েছিলেন যে সম্পূর্ণ চিত্রনাট্যের প্রয়োজনেই এই দৃশ্যগুলো জরুরি। সেদিন কিন্তু নায়ক একেবারেই চুপচাপ ছিলেন এবং কোনোভাবেই রাগে বা অভিমান করে নায়িকার পাশ থেকে সরে যাননি।
এদিকে একটি মাত্র রাতের সেই তারকাখচিত অনুষ্ঠানের আকস্মিক ঘটনা এতটাই তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে যে, এখন রীতিমতো ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয়েছে ওই তারকা জুটির ঘনিষ্ট বন্ধুদের। বিষয়টি নিয়ে যখনই কোনো গণমাধ্যমকর্মী বা অনুরাগী কৌতূহল প্রকাশ করছেন, তখনই সেই বন্ধুরা তড়িঘড়ি সাফাই গেয়ে বেড়াচ্ছেন যে, এর পেছনে কোনো জটিল কারণ নেই; পুরোটাই নাকি নায়কের নতুন আসন্ন কাজের এক অভিনব প্রচারের অঙ্গ মাত্র! তাঁরা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছেন যে, আগামী দিনে পর্দায় যাঁকে নায়কের বিপরীতে দেখা যাবে, সেই নতুন নায়িকার সঙ্গেই তিনি মূলত ওই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অনস্ক্রিন রসায়নের প্রচার করতে। বন্ধুরা আরও দাবি করছেন যে, নায়কের বাস্তবের রিয়েল লাইফ নায়িকা নাকি পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পেরেছেন। আর বুঝতে পেরেছেন বলেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন! কিন্তু এই সান্ত্বনার বাণীতেও কি টলিপাড়ার এই চর্চিত জুটির ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে? সেই উত্তর লুকিয়ে রয়েছে সময়ইয়ের গর্ভে।