“প্রধানমন্ত্রী কি ভগবান?”-মিম নিয়ে সাফাই দিয়ে চরম বিতর্ক বাঁধালেন CJP মুখপাত্র!

দেশের একাধিক শহরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) প্রতিবাদ আন্দোলন ঘিরে তরজা তুঙ্গে। প্রতিবাদ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্টার ও কুরুচিকর মিম ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সেই সমস্ত কনটেন্ট বা পোস্টগুলি সরিয়ে ফেলছে। আর এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে মুখ খুললেন CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর সাফ কথা, “কোনটা আপত্তিকর আর কোনটা নয়, তা নির্ধারণ করার একচ্ছত্র অধিকার কার?”

সেন্সরশিপ ও রসিকতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে তৈরি হওয়া কুরুচিকর পোস্টার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মিম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সৌরভ দাস এক ধাপ বাড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী কি ভগবান? মানুষ তো হালকা রসিকতা করতেই পারে, এটাই তো গণতন্ত্রের অঙ্গ।” তাঁর অভিযোগ, পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিলে তারা এটিকে সেন্সরশিপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং বর্তমানে ঠিক সেটাই ঘটছে। তাঁর মতে, একজনের কাছে যা আপত্তিকর ঠেকতে পারে, তা অন্য কারও কাছে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হতেই পারে। পুলিশের এই পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছেন তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

শুধু পোস্টার বা মিম বিতর্কই নয়, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন এবং এফআইআর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছে CJP। সৌরভ দাসের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং ড. জিতেন্দ্র সিং সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর রাখা হবে না এবং সেগুলি প্রত্যাহার করা হবে। সরকারের সেই লিখিত প্রতিশ্রুতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে এই প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

সৌরভ জানান, শুধুমাত্র বিহারেই প্রায় ৫০০টি নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও এই শর্ত কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার যে গ্যারান্টি বা প্রতিশ্রুতি যুবসমাজকে দিয়েছিল, তা তাদের রক্ষা করা উচিত। কীভাবে সেন্সরশিপ চাপানো যাবে বা ছাত্রছাত্রীদের আইনি ফাঁদে ফেলা যাবে, সেই চিন্তা বাদ দিয়ে সরকারের উচিত দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।”

একইসঙ্গে সরকারের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কেন্দ্র কথা না রাখে, তবে যন্তর মন্তর থেকে সরে যাওয়া ছাত্রছাত্রীরা ফের রাজপথে নামতে বিন্দুমাত্র সময় নেবে না। দেশের যুবসমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ—এই বার্তা দিয়েই প্রশাসনকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি।