১৮ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির বিরাট টার্গেট! পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ঘুরে দাঁড়াতে বিধানসভায় কোন মাস্টারস্ট্রোক আনল সরকার?

রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে চাঙ্গা করতে এবং প্রশাসনিক কোষাগারকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এক সুদূরপ্রসারী ও महत्त्वाकांক্ষী পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। চলতি আর্থিক বছরে রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বা রেভিনিউ কালেকশন এক লাফে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন আর্থিক খসড়া ও আয়ের নানা উৎস তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কিছু নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল, আর সেই পথেই সুচারুভাবে হাঁটছে বর্তমান প্রশাসন।

অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর বাজেট ও আর্থিক পর্যালোচনা পেশ করার সময় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, রাজ্যের নিজস্ব আয় বা রাজস্ব আদায়ের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে মাইনিং বা খনি সেক্টর থেকে আসা আয়কে সবথেকে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। খনি ও খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলি থেকে সঠিক উপায়ে এবং সুশৃঙ্খলভাবে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে পারলে তা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হবে। এছাড়া, বাণিজ্যক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রেখে জিএসটি বা পণ্য ও পরিষেবা কর আদায়ের পরিমাণ আরও তরান্বিত ও সুসংহত করাও রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান ও অগ্রাধিকারের লক্ষ্য। বিগত বেশ কিছু সময় ধরে কর ফাঁকি দেওয়ার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, তা কঠোরহস্তে দমন করার পাশাপাশি করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও সাবলীল করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করতে এই রাজস্ব বৃদ্ধি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বিধানসভার অন্দরে অর্থমন্ত্রীর এই আশাবাদী বক্তব্য এবং সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। রাজ্যবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দেখছেন যে, নির্ধারিত এই ১৮ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির টার্গেট অর্জনে শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয় প্রশাসন।