যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি তাণ্ডব! অমিত শাহকে কড়া ভাষায় লেখা রাহুলের চিঠিতে ফাঁস কোন মারাত্মক সত্যি?

দিল্লির যন্তর-মন্তরে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং মারণাত্মক পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ব্যবহারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর চালানো এই বর্বর পুলিশি হিংসার কড়া ও দৃষ্টান্তমূলক জবাব চেয়ে এবার সরাসরি দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি অত্যন্ত বিস্ফোরক ও কড়া ভাষায় চিঠি লিখেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দ্ব্যর্থহীন অভিযোগ, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার এই ছাত্র সমাজের যৌক্তিক দাবিগুলো শোনার বা বোঝার বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করে উল্টে তাঁদের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাশবিক বলপ্রয়োগ করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এই চিঠিতে রাহুল গান্ধী একাধিক গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রধান দাবি, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা তথা নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পড়ুয়ারা সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গত ২০শে জুলাই পুলিশ প্রশাসন যেভাবে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, তা স্বাধীন ভারতে নজিরবিহীন। চিঠিতে রাহুল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো রকম বাছবিচার না করেই নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও মারাত্মক মারণাস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে শত শত সাধারণ ছাত্রছাত্রী গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী আরও এক চরম ও মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন যে, পুলিশ সদস্যরা কর্তব্য পালনের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে মহিলা পড়ুয়াদের ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের লাঞ্ছিত করেছেন। এই পুলিশি তাণ্ডবের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং অমানবিক দিকটি হলো আন্দোলন দমাতে পেলেট গানের যথেচ্ছ ব্যবহার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই নৃশংস হামলায় বহু নিরপরাধ মানুষ এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকরাও মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। চিঠিতে তিনি বিশেষভাবে ১৯ বছরের তরুণ ছাত্র সাহিল লোচাবের মর্মান্তিক পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন। পেলেট গানের প্রাণঘাতী আঘাতে সাহিল বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এবং চিকিৎসকদের আশঙ্কা, পেলেট গানের ছররা তাঁর চোখে লাগার ফলে তাঁর একটি চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। ইতিমধ্যেই আহত ওই ছাত্রের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করে তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
দিল্লি পুলিশ সরাসরি দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, আর এই প্রশাসনিক সূত্রের কথা মাথায় রেখেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে সরাসরি দুটি তীক্ষ্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন রাহুল। তাঁর প্রথম প্রশ্নটি হলো—শিক্ষার্থী ও পড়ুয়াদের ওপর পেলেট গানের মতো মারণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি কি খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে দিয়েছিলেন? যদি তিনি এই নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তবে এই বেআইনি ও অমানবিক নির্দেশ দেওয়ার নেপথ্যে কার হাত ছিল? তাঁর দ্বিতীয় প্রশ্নটি আরও বেশি উদ্বেগজনক; ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাক পরিহিত কিছু দুষ্কৃতী হাতে লাঠি নিয়ে পড়ুয়াদের ওপর বেধড়ক চড়াও হয়েছে। এই সাদা পোশাকের লোকেরা আসলে কারা? এরা কি পুলিশের লোক নাকি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের ক্যাডার? এদের প্রকাশ্য রাস্তায় হিংসাত্মকভাবে মোতায়েন করার অনুমতিই বা কে দিল?
ছাত্রবিক্ষোভ দমনে দিল্লি পুলিশের এমন অতি-সক্রিয় ও হিংসাত্মক ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র তরজা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলির জোরালো দাবি, সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে অকারণে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে তরুণ সমাজকে স্তব্ধ করতে চাইছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজেদের সাফাইয়ে বলা হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতেই পরিস্থিতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক ও তথ্যবহুল চিঠির পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো সদুত্তর বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি।