ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে গভীর ষড়ষন্ত্র! ধর্মতলা উত্তাল করার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের জালে মাফিয়া চক্রের একাধিক হোতা

রাজ্যজুড়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক ঘটনা ও রাজনৈতিক সংঘাতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যেমন আর্থিক প্রতারণা, সরকারি প্রকল্পের কাটমানি আত্মসাৎ এবং তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাঁকুড়া জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক দাপুটে নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, অন্যদিকে তেমনি ছাত্র বিক্ষোভের আড়ালে কলকাতার ধর্মতলায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মোট ১৪ জন বহিরাগত ও সমাজবিরোধী উপাদানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জোড়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি বারাণসী গড়াইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক আর্থিক প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষের থেকে জোরপূর্বক তোলা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে দেদার কাটমানি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ এবং সক্রিয় বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধর করার মতো একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর প্রত্যক্ষ যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করেছে এবং এই গ্রেপ্তারের ফলে শাসকদলের অন্দরে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অন্য একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, গত কদিন আগে ছাত্র বিক্ষোভের নামে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় যে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতদের মধ্যে আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ, অন্ডাল থেকে পাকড়াও হওয়া মহম্মদ আফরোজ, জোড়াসাঁকোর ইরফান খুরশেদ এবং তিলজলার বাসিন্দা মহম্মদ মইনুদ্দিন রয়েছেন। এছাড়াও পুলিশের জালে ধরা পড়েছে মহম্মদ আলমগীর, ইমরান আহমেদ, খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু, বেনিয়াপুকুরের জমির আহমেদ ওরফে মিঙ্কু, কড়েয়ার বাসিন্দা মহসিন খান ও দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি এবং গার্ডেনরিচের বাসিন্দা মহম্মদ আজাদ।

পুলিশের শীর্ষকর্তারা সাংবাদিক বৈঠক করে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ধর্মতলার ওই অশান্তির ঘটনায় মোট যে কয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দীর্ঘ জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ধৃত ওই ব্যক্তিদের মধ্যে দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী বা নিট (NEET) পরীক্ষার্থীর যোগ পাওয়া যায়নি। এরা প্রত্যেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গোলমাল পাকানোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। এদের মধ্যে অন্তত দুইজন অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল এবং সময়মতো পুলিশের বিশেষ দল তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। ছাত্র সমাজের পবিত্র আন্দোলনকে কালিম্পিপ্ত করতে এই বহিরাগত মাফিয়ারা কীভাবে মিছিলে ঢুকে নাশকতামূলক কারবার চালিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুলিশ প্রশাসন।