টিকিট কেটেও লাইনে দাঁড়ানোর হাঙ্গামা খতম! যুবভারতীতে ডার্বি দেখতে যাওয়ার আগে এই বিরাট নিয়ম জানেন তো?

চলতি মরশুমের শুরুতেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অত্যন্ত সুখবর শোনাল প্রশাসন। বিশেষ করে প্রথম ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান মেগা ডার্বির ঠিক আগেই রাজ্যের ক্রীড়ামহল ও সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। কলকাতার ঐতিহাসিক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলা দেখতে আসার ক্ষেত্রে টিকিটের পুরনো এবং ঝক্কিপূর্ণ নিয়মে এবার এক বিরাট ও আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস’ বা ডিজিটাল টিকিটের ব্যবস্থা চালুর কথা ঘোষণা করেছেন। ডুরান্ড কাপ কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সমর্থকরা অনলাইনে ডার্বির টিকিট কাটলে তা আর মাঠে যাওয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে রিডিম করার কোনো প্রয়োজন হবে না।

এখন থেকে মোবাইলের স্ক্রিনে কেবল বৈধ ই-টিকিট বা এম-টিকিট (M-Ticket) দেখাতে পারলেই সরাসরি স্টেডিয়ামের মূল গেট দিয়ে নির্বিঘ্নে প্রবেশাধিকার মিলবে। এর ফলে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে ঢোকার আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে বা বৃষ্টিতে লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজের শারীরিক টিকিট সংগ্রহ করার চরম ঝক্কি এক ধাক্কায় চিরতরে দূর হয়ে গেল।

এই নতুন ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ তাঁর ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি পরিষ্কার ভাষায় লিখেছেন যে, বিগত বছরগুলিতে যে সমস্ত ফুটবলপ্রেমী অনলাইনে টিকিট বুক করতেন, তাঁদের ম্যাচের দিন মাঠে আসার আগেই কোনো নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে সেই টিকিট রিডিম বা ফিজিক্যাল কপিতে রূপান্তর করতে হতো। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে দর্শকদের সেই অহেতুক হয়রানি আর পোহাতে হবে না। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার মূল্যবান সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই শুধুমাত্র মোবাইল স্ক্রিনে ডিজিটাল টিকিট বা এম-টিকিট দেখিয়েই ফুটবলপ্রেমীরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে সরাসরি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন।

একই সঙ্গে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে যোগ করে বলেছেন যে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দেশের সমস্ত ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের এই পেপারলেস বা কাগজবিহীন টিকিট ব্যবস্থা এখন একটি বাস্তব সত্য। এই মরশুমের প্রথম ডার্বি ম্যাচ থেকেই এই নতুন নিয়ম সফলভাবে কার্যকর করে দেওয়া হলো। সুতরাং, এখন থেকে অনলাইনে টিকিট কাটার পর আর কোথাও গিয়ে অফলাইনের চক্করে পড়ে তা রিডিম করতে হবে না।

উল্লেখ্য, রাজ্যের দুই প্রধানের সমর্থকরা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কাটা টিকিটের ক্ষেত্রে এই আধুনিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থার জন্য তীব্র দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর আগে অনলাইনে টাকা দিয়ে টিকিট বুক করার পরও নির্ধারিত কাউন্টারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তা রিডিম করতে হতো, যার ফলে অনলাইন বুকিংয়ের মূল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন দর্শকরা। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মেয়াদে সমর্থকদের এই দীর্ঘদিনের সুপ্ত দাবি পূরণ না হলেও, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী দায়িত্বভার গ্রহণ করতেই সমর্থকদের সেই বহু প্রতীক্ষিত দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হলো। ডার্বির মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের ঠিক আগে এই দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় দুই প্রধানের লক্ষ লক্ষ লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুন সমর্থক এখন চরম স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।