নিট কাণ্ডের জেরে বড় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের! পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফেরাতে কেন্দ্র ও এনটিএকে কড়া নির্দেশ

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বহুল আলোচিত NEET-UG প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর দেশের সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে কেন্দ্র সরকার এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে অত্যন্ত বিস্তারিত হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে কেবল কিছু অস্থায়ী বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই চলবে না, বরং প্রস্তাবিত সংস্কারগুলি কীভাবে সম্পূর্ণ স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে কার্যকর করা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি.এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ শুনানিমঞ্চে অত্যন্ত কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে জানিয়েছে, “আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই গোটা প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজরদারি চালিয়ে যাব। পরীক্ষা ব্যবস্থায় যে সংস্কারগুলির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি যাতে কেবল কাগজেকলমে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি কার্যকর হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব। শুধু তাই নয়, সারা বছর ধরেই আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব।”
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে আদালত প্রস্তাবিত নতুন গভর্নিং বোর্ড গঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বাধীন বিশেষ ইউনিট, সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বা হাই-পাওয়ার্ড কমিটির যাবতীয় সুপারিশ বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কেও অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তলব করেছে।
পরীক্ষার আগে, পরীক্ষা চলাকালীন এবং পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরের সময়—এই অত্যন্ত সংবেদনশীল তিনটি ধাপেই সংস্কারমূলক কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করে আগামী দিনে পরীক্ষা পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, একাধিক সেশনে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা, নিখুঁত পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ এবং তার অতি নিরাপদ পরিবহণের সুব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (Computer-Based Testing) চালুর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং সেই ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিগত ডেটা ও তথ্য সুরক্ষার জন্য কী ধরনের সুদৃঢ় পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হবে, তাও হলফনামায় আবশ্যিকভবে উল্লেখ করতে বলেছে বেঞ্চ। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের দ্রুত ও নির্ভুল পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জনপ্রিয় ‘ডিজি যাত্রা’র মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছে معزজ আদালত।
শুনানিকালীন সময়ে বিচারপতি নরসিমহা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন যে, ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পরপরই অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে প্রশ্নপত্র পরিবহণের জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। তবে এটি কেবল বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা মাত্র, কোনো স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে না।
কেন্দ্রের দাখিল করা পূর্ববর্তী হলফনামায় এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সুনির্দিষ্ট উল্লেখ না থাকায়, সলিসিটর জেনারেল তুষার কোর্টে উপস্থিত হয়ে নতুন করে একটি অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত হলফনামা দাখিল করার জোরালো আশ্বাস দেন। আদালতের পক্ষ থেকে সেই আবেদন সানন্দে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী সোমবার ধার্য করা হয়েছে।