চল্লিশ বছর পেরিয়েও ফুরোলো না ম্যাজিক! মহানায়কের জন্মশতবর্ষে কলকাতায় নতুন ফিল্ম সেন্টার ও আধুনিকায়নের বিরাট ঘোষণা

বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের অবিসংবাদিত সম্রাট, বাঙালির অকৃত্রিম আবেগ তথা ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারের স্মরণ অনুষ্ঠানে এদিন শহরের বিভিন্নপ্রান্তে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে একটি নতুন ফাইবারের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়। এই বিশেষ ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনিক কর্তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, তাপস রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বিশিষ্ট বিধায়ক-তথা-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের মতো তারকারা। মূর্তি উন্মোচনের এই ভাবগম্ভীর পরিবেশেই মহানায়কের স্মৃতি রক্ষার্থে একাধিক সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণা। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্বে আলোচনা করে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মহানায়কের শেষকৃত্যের স্থানে পরিবারের সম্মতি নিয়ে একটি ফাইবারের মূর্তি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বাংলা সিনেমায় তাঁর অতুলনীয় অবদানের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, শুধু প্রয়াণদিবস নয়, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মশতবর্ষ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন করা হবে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন যে বিগত দিনে তাঁরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন এবং সেই ভুল সংশোধন করে এবার মহানায়ককে উপযুক্ত সম্মান জানাতে হবে। এই উপলক্ষেই আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা চার দিন ধরে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

জন্মশতবর্ষের এই মহোৎসবকে সফল করতে এবং মহানায়কের স্মৃতিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁচিয়ে রাখতে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমত, আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চার দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হবে। দ্বিতীয়ত, মহানায়কের স্মৃতিতে কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক ফিল্ম সেন্টার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তৃতীয়ত, কলকাতা পৌরসভা পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘উত্তম মঞ্চ’-এর সামগ্রিক সংস্কার ও আধুনিকীকরণের সমস্ত দায়িত্ব সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। চতুর্থত, এই শতবর্ষ উদযাপন সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য নন্দনে বা রবীন্দ্রসদনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মহানায়কের পরিবারের মতামত এবং সম্মতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে। কেওড়াতলার অনুষ্ঠান শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি মহানায়কের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।