আইটিআর ফাইল জমা দিলেই কি আসবে নোটিস? কোন বড় ভুল করলেই সোজা কড়া নজরদারি চালাবে আয়কর বিভাগ!

দেশের সমস্ত করদাতা এবং চাকরিজীবী নাগরিকদের জন্য আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস বা সিবিডিটি (CBDT)। আয়কর রিটার্ন জমা পড়ার পর এবার থেকে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্রুটিনি বা বিস্তারিত তদন্তের আওতায় রাখা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। মূলত কর ফাঁকি সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো এবং কর ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আয়কর বিভাগ। সিবিডিটির নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট এবং সংবেদনশীল ক্ষেত্রে জমা পড়া ট্যাক্স রিটার্নগুলি এবার থেকে একেবারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অটোম্যাটিকভাবে বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য নির্বাচিত করা হবে।

নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, বিগত ১ এপ্রিল ২০২৪ বা তার পরবর্তীতে আয়কর আইনের ১৩৩এ ধারা অনুযায়ী যে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা পেশাগত জায়গায় সার্ভে বা সমীক্ষা চালানো হয়েছে, তাদের জমা দেওয়া সমস্ত রিটার্ন সরাসরি বাধ্যতামূলক স্ক্রুটিনির আওতাভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, একই ধারার ১৩৩এ(২এ) উপধারার অধীনে পরিচালিত সার্ভেগুলি এই নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ১ এপ্রিল ২০২৪ বা তার পরের সময়সীমার মধ্যে আয়কর আইনের ১৩২ অথবা ১৩২এ ধারার অধীনে দেশের কোথাও তল্লাশি চালানো হলে কিংবা কোনো করদাতার সম্পত্তি ও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হলে অথবা বাজেয়াপ্ত করার মতো কোনো আইনি পদক্ষেপ করা হলে, সেই সমস্ত করদাতার ফাইলও অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্ক্রুটিনি করবে আয়কর দফতর।

পাশাপাশি, এমন কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা মামলার ক্ষেত্রেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে যেখানে আয়কর আইনের ১৪৮ ধারার অধীনে ইতিমধ্যেই নোটিস জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ১৪৩(২) ধারার অধীনে আইনি তদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। সাধারণত কোনো করদাতা কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের সঠিক আয় গোপন করেছেন কিংবা করযোগ্য আয় অনেক কম দেখিয়ে রিটার্ন দাখিল করেছেন বলে জোরালো সন্দেহ তৈরি হলেই আয়কর দফতরের পক্ষ থেকে এই ধরনের কড়া নোটিস জারি করা হয়ে থাকে। এছাড়া ১২এ এবং ১২এবি সহ একাধিক বিশেষ ধারার অধীনে কর ছাড় বা রেয়াতের সুবিধা দাবি করেছে এমন কোনো সংস্থার ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদন যদি চলতি বছরের ৩১ মার্চ তারিখের মধ্যে বাতিল হয়ে থাকে কিংবা মঞ্জুর না করা হয়ে থাকে, তবে সেই সমস্ত সংস্থার রিটার্ন ফাইলও বাধ্যতামূলক স্ক্রুটিনির মুখে পড়বে।

কর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এর আগের বিভিন্ন অর্থবর্ষে যদি কোনো করদাতার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের কর সংযোজন সংক্রান্ত নির্দেশ চূড়ান্তভাবে বহাল থাকে এবং সেই অতিরিক্ত করের পরিমাণ মেট্রোপলিটন বা বড় শহরগুলির ক্ষেত্রে ৫০ লক্ষ টাকা কিংবা অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ টাকার সীমা অতিক্রম করে যায়, তবে সেই সমস্ত হাই-প্রোফাইল করদাতাদের রিটার্নও এবার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হবে। এর সুনির্দিষ্ট পাশাপাশি, দেশের অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী বা গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কর ফাঁকির নির্ভরযোগ্য তথ্য হাতে আসে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই অনুযায়ী রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন, তবে সেই বিশেষ ক্ষেত্রটিতেও সম্পূর্ণ স্ক্রুটিনি করা হবে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সিবিডিটির এই কড়া নির্দেশিকা দেশের সার্বিক আর্থিক শৃঙ্খলার সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ।