দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভে পাকিস্তানি যোগ! বড়সড় নাশকতার ছক ফাঁস করে ৪শ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ব্লক করল পুলিশ!

রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সিজেপি-র ডাকে আয়োজিত এই আন্দোলন এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই চলমান ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে, ভুল তথ্য ছড়াতে এবং ভুয়া বিষয়বস্তু প্রচারের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ একযোগে চারশোরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল চিহ্নিত করেছে এবং সেগুলিকে ব্লক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক জরুরি ভিডিও বার্তায় ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) সুমিত ঝা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে জানান যে, গত বছর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চালানো ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও এই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বেশ কয়েকটি অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। ডিসিপি ঝা তাঁর বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানোর গভীর প্রচেষ্টা আমাদের সাইবার সেলের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে ৪০০-রও বেশি পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল শনাক্ত করা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি ভুয়ো তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই কারণেই সেগুলোকে দ্রুত ব্লক করা হচ্ছে।”
তিনি আরও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “এগুলো ঠিক সেই একই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল যা বিগত দিনে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল। এই কুখ্যাত হ্যান্ডেলগুলোর একমাত্র এবং প্রধান উদ্দেশ্য হল ভারতের শান্তিপ্রিয় সাধারণ জনগণকে উসকে দেওয়া এবং দেশের উদীয়মান তরুণ সমাজের মনোযোগ ভিন্ন খাতে ঘুরিয়ে দেওয়া। আমি দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত জোরালো আবেদন জানাচ্ছি, কোনো অবস্থাতেই যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট বা খবর শেয়ার করবেন না।”
এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যখন বিভিন্ন মহলের তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই দিল্লি পুলিশের এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রী মধ্য দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তর ও তার সংলগ্ন এলাকায় সমবেত হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হিংসাত্মক গুজব ছড়ানো রোধ করতে এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাজুড়ে যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। সেই সময়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জোরালো স্লোগান দিতে থাকেন। এই ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আম আদমি পার্টি (আপ)-র জাতীয় সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো হেভিওয়েট বিরোধী নেতারা তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, দিল্লি পুলিশ হয়তো কোনো দমন-পীড়নের গোপন পরিকল্পনা করেছে এবং বিক্ষোভস্থল জোরপূর্বক খালি করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ একটি আনুষ্ঠানিক সরকারি বিবৃতিতে এ ধরনের সমস্ত ভিত্তিহীন আশঙ্কা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছে।