মণিপুর হিংসার বিচার দ্রুত করতে বড় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের! স্পেশাল কোর্ট গঠনের নির্দেশ নিয়ে বড় আপডেট

২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে সংঘটিত নজিরবিহীন জাতিগত হিংসা এবং তার জেরে দায়ের হওয়া বহুচর্চিত ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া এবার অত্যন্ত দ্রুত ও নিয়মিতভাবে (প্রতিদিন) সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ আদালত গঠনের যুগান্তকারী প্রস্তাব দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এদিন সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, বকেয়া থাকা সমস্ত তদন্তের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে এবং আদালতের নিয়মানুযায়ী প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার যাতে বাধ্যতামূলকভাবে চার্জশিটের প্রতিলিপি হাতে পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চ মণিপুরের হিংসা সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিকালে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করে যে, ঘটনার দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও বহু ভুক্তভোগী ও তাঁদের অসহায় পরিবার সিবিআই (CBI) এবং রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT)-র দায়ের করা ফৌজদারি মামলার চার্জশিটের কপি এখনও পর্যন্ত হাতে পাননি। এই ত্রুটি সংশোধন করতে আদালত ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনজীবীদের গুয়াহাটি ও মণিপুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে চার্জশিটের প্রতিলিপি চাওয়ার আইনি অনুমতি প্রদান করেছে। একইসঙ্গে, তদন্তকারী সংস্থাসমূহকে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আইনজীবীদের হাতে সেই চার্জশিটের প্রতিলিপি তুলে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচারকাজ দ্রুত ও নিয়মিত প্রতিদিনের ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়ে শীর্ষ আদালতের এই বিশেষ বেঞ্চ এদিন রাজ্য সরকার, এসআইটি এবং সিবিআই-এর পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে জোরালো নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে, যেসব মামলার তদন্ত সম্পূর্ণ হয়ে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং যেগুলির তদন্ত এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেই সমস্ত মামলার বিস্তারিত তথ্য যেন একত্রিত করে দ্রুত আদালতে পেশ করা হয়। এর ফলে সুনির্দিষ্টভাবে বিচারকাজ দ্রুত পরিচালনার জন্য ঠিক কতগুলো বিশেষ আদালতের প্রয়োজন হতে পারে, তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত সহজ হবে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট জাতিগত হিংসার জেরে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ৩০ জন ব্যক্তির মামলাগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে খতিয়ে দেখার জন্য মণিপুর হাইকোর্টকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে।