প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা মোদীর! পাল্টা হুঙ্কার ছেড়ে কী বললেন রাহুল-খাড়গে?

দেশজুড়ে তীব্রতর হতে থাকা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ছাত্র আন্দোলনের জেরে এবার চরম রাজনৈতিক সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। বুধবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করে জানান যে, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের দ্রুত ও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক আদালত’ (Fast Track Court) গঠনের কথা ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির পরই আসরে নেমে আসেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। প্রধানমন্ত্রীর সেই পোস্টটি রিটুইট করেই তাঁরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন এবং দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব নিয়ে মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর করা ওই টুইটটি শেয়ার করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, “আমাদের দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি বা সর্বনাশ করেছেন আপনি নিজেই। আপনিই আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে কবজা ও ধ্বংস করার অবাধ সুযোগ দিয়েছেন এবং পদে পদে তাতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই ধ্বংসলীলার জন্য দায়ী প্রতিটি ব্যক্তিকে আপনি এবং আপনার সরকার সর্বতোভাবে সুরক্ষা দিয়ে এসেছে।” একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলি আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরে রাহুল লেখেন যে, শিক্ষার্থীদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—প্রথমত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে; দ্বিতীয়ত, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং তৃতীয়ত, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতির পর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে খাড়গে তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আপনার নিরাপদ ও আরামদায়ক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আইভরি টাওয়ার বা সুউচ্চ প্রাসাদ থেকে এবার দয়া করে বাইরে বেরিয়ে আসুন। দেশের যে তরুণ-তরুণীরা আপনার একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করতে গিয়ে রাজধানীর রাজপথে নেমে রক্ত ঝরিয়েছে, একবার তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন।” এখানেই না থেমে খাড়গে আরও যোগ করেন যে, বর্তমান জমানায় দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে এবং জরাজীর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের বা যুবসমাজের আজ কোনো ফাঁকা বুলি বা জোড়াতালি দেওয়া ভাসাভাসা ঘোষণার প্রয়োজন নেই। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার যুবসমাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জবাব দিতে তাদের ওপর নির্বিচারে বর্বরোচিত লাঠিচার্জ করেছে, মারণ পেলেট গান ও ইলেকট্রিক শক ব্যাটন ব্যবহার করেছে। কোনো রকম শাস্তির ন্যূনতম ভয় না রেখেই প্রশাসনিক স্তরে এই অপরিসীম ও নৃশংস বর্বরতা চালানো হয়েছে, যা দেখলে মনে হবে দেশের এই তরুণরা বুঝি আমাদের নিজেদের সন্তানই নয়!
রাহুলের সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে আরও অভিযোগ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক সংগঠন আরএসএস (RSS) সুপরিকল্পিতভাবে দেশের গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য তথা পিএলএফএস (PLFS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে বেকারত্বের ভয়াবহ হার ছুঁয়েছে প্রায় ২৯ শতাংশে। বাজারে কোনো ধরনের মর্যাদাপূর্ণ বেসরকারি চাকরির সুযোগ নেই, অন্যদিকে সরকারি চাকরির শূন্যপদও হাতেগোনা কয়েকটি। দেশজুড়ে বর্তমানে শুধুই চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী নিয়োগের প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বেড়েই চলেছে, যার ফলে তরুণ প্রজন্মের সামনে সমস্ত কর্মসংস্থানের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় বুক বেঁধে থাকা যুবসমাজ आखिर কোথায় যাবে এবং কার কাছে প্রতিকার পাবে, সেই প্রশ্ন তুলে মোদী সরকারকে কোণঠাসা করেছে প্রধান বিরোধী দল। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতা যেমন জয়রাম রমেশ, পবন খেরা এবং কে সি বেণুগোপালও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। বিশেষ করে পবন খেরা কটাক্ষ করে লিখেছেন যে, শুধুমাত্র একজন মন্ত্রীর অর্থাৎ ধর্মেন্দ্র প্রধানের গদি ও পদ বাঁচাতে আজ গোটা বিজেপি দল ও সরকার একজোট হয়ে তাঁর অন্ধ সমর্থনে মাঠে নেমে পড়েছে।