দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে খুলছে বন্ধ মহাদেব জুট মিল, হাসি ফুটল ৮৫০ শ্রমিকের মুখে!

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম দফতরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ উদ্যোগে অবশেষে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার অবসান ঘটিয়ে খুলতে চলেছে বন্ধ হয়ে থাকা মহাদেব জুট মিল। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছিল এই জুট মিলটি। এর জেরে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন মিলের সঙ্গে যুক্ত শত শত শ্রমিক পরিবার। এই জটিল সমস্যার স্থায়ী ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সম্প্রতি কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে রাজ্য সরকারের শ্রম দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অর্জুন সিং-এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং নির্দেশিকায় একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মন্ত্রী অর্জুন সিং ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য এবং শ্রম দফতরের সচিব রচনা ভগত। পাশাপাশি, শ্রম দফতরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে বিশেষ শ্রম কমিশনার আশিস সরকার এবং হাওড়ার ডেপুটি শ্রম কমিশনার সুমন্ত রায়ও এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। মিলের অচলাবস্থা কাটাতে এবং মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে সভায় বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। দীর্ঘ ও ম্যারাথন আলোচনার পর অবশেষে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে এই মহাদেব জুট মিলটি। রাজ্য প্রশাসনের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি উপকৃত হলেন মিলের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৮৫০ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক। দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন থাকা এই পরিবারগুলির অন্নসংস্থানের পথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় গোটা জুট মিল চত্বরে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, মহাদেব জুট মিলের এই নবজীবন লাভের ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়। এর ঠিক আগেই রাজ্যের পক্ষ থেকে একে একে বরাহনগর জুট মিল, জগদ্দল জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, এমকো জুট মিল, চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী গোন্দলপাড়া জুট মিল, শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুট মিল এবং শ্রীরামপুরের হেস্টিংস জুট মিল সহ একাধিক বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে বহু বছর ধরে কাজ হারিয়ে বসে থাকা হাজার হাজার কর্মহীন শ্রমিক পুনরায় নিজেদের কাজের জায়গায় ফিরে যেতে পেরেছেন। সম্প্রতি রাজ্যের শ্রম দফতরের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুলে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যেই বর্তমানে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে শ্রম দফতর।

রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী সময়ে বাংলার শিল্প মানচিত্রে জুট মিলগুলির এই পুনরুজ্জীবন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। শ্রম দফতরের পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার পর থেকেই এই শিল্পকে বাঁচিয়ে তুলতে একপ্রকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্যোগী হয়েছেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। ইতিপূর্বে তিনি বিভিন্ন মিল কর্তৃপক্ষ, মালিকপক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক ম্যারাথন বৈঠক করেছেন এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই জুট শিল্পে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে তোলার রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছেন। তাঁর এই নিরলস রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ফলেই একের পর এক বন্ধ কারখানা ফের চালু হওয়ার রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার মহাদেব জুট মিল খোলার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রাজ্যের সামগ্রিক শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক বার্তা বহন করে নিয়ে এল।