থানায় অভিযোগ জানানোর খেসারত! বাইক থেকে নামিয়ে মাঝরাতে নৃশংস হামলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রক্তগঙ্গা!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট-২ ব্লকের বেড়ামারা এলাকায় দীর্ঘদিনের একটি জমি ও রাস্তা সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক নৃশংস হামলার ঘটনা। পূর্বপরিকল্পিত এই ঘটনায় ধারালো অস্ত্র ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে আব্দুস সামাদ সরদার নামের এক ব্যক্তিকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকারই বাসিন্দা সানোয়ার সরদার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি জায়গায় অবৈধ নির্মাণ ও রাস্তা দখল করা নিয়ে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। আব্দুস সামাদ সরদার এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং সম্প্রতি এই বিষয়ে মগরাহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই ক্ষোভের বসেই বুধবার রাতে যখন সামাদ থানা থেকে নিজের বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়।
হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আহত আব্দুস সামাদ জানান, তিনি বাইক থেকে বাড়ির সামনে নামা মাত্রই একদল দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। হামলাকারীদের মধ্যে একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে কোপানো হয়। আকস্মিক এই হামলায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর আর্তনাদ শুনে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সামাদের স্ত্রী সামিনা বিবিও এই হামলার পেছনে প্রতিবেশী সানোয়ার সরদারের পরিবারের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কারণেই তাঁর স্বামীর ওপর এই পরিকল্পিত প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনি সমস্ত অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত বেড়ামারা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়। ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও বিজয় যাদব এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মগরাহাটের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তড়িঘড়ি দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় জোরদার তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগটিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।