লোকসভায় বড় ধাক্কা TMC-র! বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সংসদের চলতি বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হলো তৃণমূল কংগ্রেসের (মমতাপন্থী) শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সংসদের বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে তিনি আর লোকসভায় প্রবেশ বা অংশ নিতে পারবেন না। সংসদের অন্দরে মহিলা সাংসদদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর, আপত্তিকর এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে কল্যাণের বিরুদ্ধে?
সংসদ সূত্রে খবর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগের আঙুল তুলেছেন দলেরই সতীর্থ তথা মহিলা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কাকলির অভিযোগ, শ্রীরামপুরের সাংসদ বারবার লোকসভার অন্দরে আপত্তিকর, অসম্মানজনক এবং অবমাননাকর ভাষা প্রয়োগ করেছেন। শুধু তাঁকে একা নয়, লোকসভার অন্যান্য মহিলা সাংসদদেরও তিনি নিয়মিতভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হেনস্থা করে আসছেন বলে অভিযোগ। সংসদের পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সম্মানহানি করার প্রসঙ্গ তুলে স্পিকারের কাছে কড়া অভিযোগ জানান কাকলি।
অর্জুন রাম মেঘওয়ালের চিঠি ও স্পিকারের সিদ্ধান্ত
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সোজা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব ও চিঠি জমা দেন। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে কল্যাণের এহেন আচরণ সংসদের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। এর পরেই স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভার বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন।
দলের অন্দরেও বিতর্ক ও মহুয়ার সঙ্গে সংঘাত
উল্লেখ্য, সতীর্থ সাংসদদের নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য বা অসদাচরণের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে তৃণমূলের অপর সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধেও তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও নালিশ জানিয়েছিলেন মহুয়া। এমনকি দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মহুয়া ও কল্যাণের মধ্যে চলা সেই তীব্র কথা কাটাকাটি ও চ্যাটও প্রকাশ্যে এসেছিল। সব মিলিয়ে, সংসদের অন্দরে মহিলা সাংসদদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাসপেনশন কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পডে় গিয়েছে।