সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে নির্দেশিকা ফাইলবন্দী! বেআইনি বাড়ি ভাঙতে কর্পোরেশনের এই অনীহা কেন?

অভয়া কাণ্ডের জেরে নানা সময়ে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন আরজি করের তৎকালীন সুপার তথা বিতর্কিত চিকিৎসক ডাঃ সন্দীপ ঘোষ। দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁর গ্রেফতারির ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। তবে এবার এক অন্য কারণে কাঠগড়ায় খোদ কলকাতা পৌরসংস্থা (Kolkata Municipal Corporation)। বিল্ডিং বিভাগের তরফে সন্দীপ ঘোষের বেলেঘাটার বাড়ির বেআইনি নির্মাণ ভাঙার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হলেও, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই নির্দেশ কার্যকর না করায় তীব্র অসন্তোষ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বয়ং অভিযোগকারী।
ঠিক কী অভিযোগ ও নির্দেশ ছিল?
আইন লঙ্ঘন: অভিযোগ ছিল, কলকাতার বেলেঘাটার বদন রায় লেন (ওয়ার্ড নং- ৩৩, বরো নং- ৩, ঠিকানা: ৮৩ নম্বর বদন রায় লেন)-এ অবস্থিত ডাঃ সন্দীপ ঘোষের বাড়ির কিছু অংশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। কলকাতা কর্পোরেশনের বিল্ডিং বিধিমালা ২০০৯-এর ১৩৩ এবং ১৩৪ নম্বর বিধি লঙ্ঘন করেই এই অননুমোদিত নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও নোটিশ: এই মর্মে অংশুমান সরকার নামের এক অভিযোগকারী কলকাতা কর্পোরেশনের বিল্ডিং বিভাগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি, স্কেচ, নকশা এবং বরো অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতা পৌরসংস্থার ৪০১ (১) ধারা অনুযায়ী গত ২০২৪ সালের ৩০শে অক্টোবর একটি সরকারি নোটিশও জারি করা হয়েছিল।
কর্পোরেশনের অন্দরেই রহস্যজনক নীরবতা
বিল্ডিং বিভাগের শুনানি কর্তা স্বয়ং বেআইনি নির্মাণ ভাঙার পক্ষে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও, খোদ কর্পোরেশনের বিল্ডিং বিভাগই কেন সেই নির্দেশ পালন করল না—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্দেশ কার্যকর করার নির্দিষ্ট দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পৌরপিতা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ না করায় ক্ষুব্ধ মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। আদালতের বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকার পরেও এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা কেন, তা নিয়ে এখন কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে কলকাতা কর্পোরেশনকে।