দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ! যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ বিক্ষোভ ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা রাজধানীতে

চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতির জেরে নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থার কারণে বুধবার সকালে হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন। দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন তথা ডিএমআরসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, মান্ডি হাউস, আইটিও এবং খান মার্কেট-সহ মোট ১৬টি মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। মূলত যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র লাগাতার বিক্ষোভ এবং আন্দোলনের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডিএমআরসি-র অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়েছে যে, লোককল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোরবাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশনগুলি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার জন্য শুধুমাত্র রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং কেন্দ্রীয় সচিবালয় স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ বা পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। হঠাৎ এই পদক্ষেপে সপ্তাহের মাঝের ব্যস্ত সময়ে শত শত অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ commuters চরম ভোগান্তির শিকার হন। সকালের ব্যস্ত সময়ে অনেককেই বাধ্য হয়ে মাঝপথে নেমে বিকল্প পরিবহণের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা যায়।

যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো এমন বড় ধরনের যাত্রাবাধা। এর আগে সিজেপি-র ‘চলো সংসদ’ অভিযানের জন্যও বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বুধবার ট্রেন চলাচল আংশিক স্বাভাবিক থাকলেও বন্ধ স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামেনি, ফলে যাত্রীরা গন্তব্যের চেয়ে অনেক দূর চলে যেতে বাধ্য হন। সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনের চত্বরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ায় তীব্র বিভ্রান্তি ছড়ায়। অনেক যাত্রী জানান, স্টেশনের চত্বর বিক্ষোভকারীরা কার্যত দখল করে ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে শুরু করায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গন্তব্যের স্টেশন বন্ধ থাকায় বিকল্প পথের সন্ধানে হিমশিম খেয়ে অনেকেই কর্মস্থল বা কলেজে পৌঁছাতে তীব্র দেরি করেন। চালু থাকা স্টেশনগুলোর বাইরে ক্যাব বুকিং ও বাসের জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

এদিকে, যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভ ও আন্দোলন বুধবারও সমান তালে বজায় রয়েছে। রাতের অন্ধকারেও প্রতিবাদস্থলে নতুন করে বহু সমর্থক এসে হাজির হয়েছেন। বর্তমানে এই আন্দোলন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে। স্বেচ্ছাসেবকরা সহানুভূতিশীল মানুষদের পাঠানো খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস গ্রহণ করছেন। বুধবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সিজেপি দাবি করেছে যে, বর্তমান সময়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে পুনরায় তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। সিজেপি-র প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কেন শিক্ষামন্ত্রীকে দেশের যুবকদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

সংগঠনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরেই চলছে এবং অন্য কোথাও কোনো জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই বিক্ষোভে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। স্বাস্থ্য অবনতির কারণে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও তিনি সেখান থেকেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়াংচুক হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই লড়াই ও অনশন নিরন্তর চলবে।