সিকিমে টানেল দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু! ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার তরুণ শ্রমিক!

সিকিমে টানেল বা সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নাগরাকাটা ব্লকের মনমোহনধুরা গ্রামের এক তরুণ শ্রমিক, যার নাম অর্জুন সাউতাল। গতকাল তাঁর মৃত্যুর দুঃসংবাদ বাড়িতে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবার এবং গোটা এলাকাজুড়ে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসারের আর্থিক অনটন দূর করতে এবং সামান্য বাড়তি উপার্জনের আশায় প্রায় এক মাস আগেই সিকিমে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন অর্জুন। কিন্তু সেখানে কাজ করার সময় এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই স্তব্ধ ও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে মনমোহনধুরা গ্রাম। পরিবারের সদস্যদের হৃদয়বিদারক কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
নিহত অর্জুন সাউতাল ছিলেন তাঁর পরিবারের সবথেকে কনিষ্ঠ সদস্য। তাঁর পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, চার ভাই এবং বৌদিদের নিয়ে একটি বড় যৌথ সংসার রয়েছে। পরিবারের করুণ আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সংসারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মাল মহকুমা থেকে এখনও পর্যন্ত সিকিমের এই টানেল দুর্ঘটনায় মোট ছয় জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর মধ্যে মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লক মিলিয়ে একাই তিন জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একের পর এক যুবকের মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকে গোটা মহকুমাজুড়ে এক গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীদের মনে জমে থাকা ক্ষোভ ও অভিযোগের সুর স্পষ্ট। তাঁদের দাবি, নাগরাকাটা এবং তার আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগের তীব্র অভাব রয়েছে। পেটের টানে বাধ্য হয়েই এ অঞ্চলের বহু যুবক জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হন। কিন্তু জীবিকার খোঁজ করতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারানোর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ হু হু করে বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কড়া দাবি, এলাকায় যদি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যেত, তবে বহু তরুণের আর জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হতো না।