জেলের ভাত ভাল! বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিতে গিয়ে কোন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে এক অভিনব ও বিতর্কিত বার্তা দিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের আন্দোলনের ময়দানে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশের সেই মঞ্চ থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপির ভাত খাওয়ার থেকে জেলের ভাত খাওয়া অনেক ভালো। গ্রেফতার হতে হলে হবে, প্রয়োজনে জেলে গিয়ে সাত দিন কাটাতে হবে—এমনটাই নিদান দিয়েছেন তিনি। তবে নেত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর সমালোচনা ও পালটা প্রশ্নবাণ।
মমতার এই জেলযাত্রার বার্তার পরই সবথেকে বড় প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, জেলের ভাত যদি এতই সুস্বাদু হয়, তবে যাঁরা দুর্নীতি করেছেন—যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁর নামে নাকি প্রায় চারশোটি মামলা ঝুলে রয়েছে—তাঁদের আর আইনি লড়াই লড়ার কোনো দরকারই নেই। সোজা জেলে গিয়ে বসে সেই সুস্বাদু ভাত খাওয়া উচিত। বিশ্বরূপবাবুর মতে, জেল খেটে না দেখলে বোঝা যায় না যে একজন বন্দীর পরিবারকে কতটা চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাতে হয়।
অন্যদিকে, এই একই সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন কলকাতা পুরসভার আরেক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাসও। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, অন্যের দলের সমালোচনা করার আগে নেত্রীর নিজের ঘরের অবস্থা দেখা উচিত ছিল। নিজের ভাইপোর বিরুদ্ধে এতগুলি মামলা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি আগে দেখা ভালো ছিল। দেবলীনার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কেবল নিজের পরিবার এবং রক্তের সম্পর্ককেই রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে তাঁকে বারবার নানা অন্যায়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একুশের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘জেলের ভাত ভালো’ মন্তব্য মূলত দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিতে বলা হলেও, তা দলের অভ্যন্তরেই গভীর ক্ষোভ ও মতপার্থক্যের ছবিটা প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। একদিকে যখন দলনেত্রী নেতাকর্মীদের জেলে যেতে প্রস্তুত থাকার কথা বলছেন, অন্যদিকে তখন দলেরই একাংশ নেতার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা ও আইনি রক্ষাকবচ সংক্রান্ত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। উল্লেখ্য, ডিজে-হুঁশিয়ারি ও অন্যান্য একাধিক মামলায় আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলায় তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সব মিলিয়ে, একুশের এই বার্তার পর তৃণমূলের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।