নিট কাণ্ডে তুলকালাম সংসদ! মোদী সরকারের মেগা মাস্টারস্ট্রোকের প্রস্তুতি, আজ বড় বৈঠকে কী ঘটবে?

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস (NEET Paper Leak) কান্ডকে কেন্দ্র করে বর্তমানে চরম উত্তপ্ত ভারতের সংসদ চত্বর। দেশজুড়ে চলা এই রাজনৈতিক হুল্লোড় এবং বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মাঝে এবার আসরে নামল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিরোধীদের প্রতিটি আক্রমণ এবং প্রশ্নের দাঁতে দাঁত চাপা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত কেন্দ্র। একইসঙ্গে এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
আজ, বুধবার নিট ইস্যুতে বিক্ষোভকারী বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারী ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজ ফের বৈঠকে বসবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জীতেন্দ্র সিং। এর আগে গত মধ্যরাতেই সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো এত বড় একটি সংবেদনশীল ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন ছিল। এমনকি ঘটনার সমস্ত নৈতিক দায় নিতে কেন্দ্র অস্বীকার করছে বলেও অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। তবে এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের জোরালো বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই কেন্দ্র হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি, বরং প্রথম মুহূর্ত থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এর সম্পূর্ণ নৈতিক দায় স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের পথ চিরতরে বন্ধ করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এনডিটিভি-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের দাবি, বিরোধীদের তরফ থেকে যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরকারের সামনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছিলেন, যার তালিকার একদম প্রথমে ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের যুক্তি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর মিলতেই কালবিলম্ব না করে বিষয়টি সিবিআই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অপরাধে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দোষী ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে যা আগামী দিনে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং এই প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুধু তাই নয়, দেশের সমস্ত রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের যৌথ সহযোগিতায় যাতে আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়েও তিনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বারবার আশ্বাস দিয়েছেন যে, দেশের কোনো মেধাবী পড়ুয়ার সঙ্গেই যাতে কোনোপ্রকার অন্যায় বা অবিচার না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক ও সংসদীয় সূত্রের খবর বলছে, বিরোধীদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়ে সরকার এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে সংসদে একটি বিস্তারিত ও দীর্ঘ আলোচনা করতেও সম্পূর্ণ রাজি হয়েছে। বিরোধীদের মুখে কুলুপ আঁটতেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
উল্লেখ্য, গতকাল নিট ইস্যুতে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তরজা আরও তুঙ্গে উঠেছে। আগামী দিনে সংসদ অধিবেশনে এই ইস্যুটি যে আরও বড় আকার ধারণ করবে, তা বলাই বাহুল্য।