টুকরো টুকরো তৃণমূলেই কি তবে নতুন সমীকরণ? একুশের মেগা মঞ্চ থেকে কাদের কড়া বার্তা দিলেন মমতা ও অভিষেক?

বিগত কিছু দিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও কোন্দলের জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই এক অন্যরকম এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একুশে জুলাই দেখল পশ্চিমবঙ্গবাসী। একদিকে যখন দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে এবং বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করার নানা সুর শোনা যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই একুশের ঐতিহাসিক মঞ্চে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন যে, দলের ‘নম্বর টু’ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর পাশে রয়েছেন এবং বিপদের দিনে অভিষেকের কাছ থেকেই সাহায্য নেওয়ার জন্য দলের কর্মীদের পরামর্শ দিলেন তিনি।

এদিনের জনসভায় দলত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে সমস্ত ‘গদ্দার’ নেতারা ইডি, সিবিআই ও সিআইডি-র হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং আইনি কবচ পেতে দল ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলবেন—তাঁদের আর দলে কোনো প্রয়োজন নেই। দলনেত্রীর এই বক্তব্যের সুর ধরে রেখে নিজের চিরচেনা মেজাজে তর্জনে-গর্জনে ফেটে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিকে সামনে রেখে এবং জোড়াফুল প্রতীকের জোরে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার পর এখন এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করার কথা বলছে, বাংলার মানুষ তাদের কোনোদিনই ক্ষমা করবে না।

সবচেয়ে বড় কথা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন যে, যারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক মাকে ত্যাগ করে চলে গেছে, সৃষ্টিকর্তাও তাদের ক্ষমা করেন না। তাই যে বা যারা দল ছেড়ে চলে গেছে, তাদের আগামী দিনে যেন কোনো অবস্থাতেই দলে ফিরিয়ে নেওয়া না হয়। কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক আরও বলেন, পুলিশ, প্রশাসন, তদন্তকারী সংস্থা এবং অর্থ—সবকিছুর অপব্যবহার করেও মানুষের মন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে মুছে ফেলা যাবে না, কারণ সাধারণ মানুষ সবসময় দলের পাশেই রয়েছে।

পরিবর্তনের বাংলায় চলতি বছরের একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ সভাটি এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একদিকে যেমন কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ এবং মেয়ো রোডে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ আলাদাভাবে শহিদ স্মরণ কর্মসূচি পালন করেছে, তেমনই দিল্লির রাজঘাটেও এনসিপিআই (NCPI)-তে মিশে যাওয়া বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথকভাবে শহিদ দিবস পালন করেছেন। এমনকি তৃণমূল শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল ও আকচাআকচির বাইরে বেরিয়ে দীর্ঘ দিন পর ময়দানে তেড়েফুঁড়ে নেমে শহিদ স্মরণ করতে দেখা গেছে কংগ্রেসকেও। রাজনৈতিক মহলের মতে, একুশের এই মঞ্চ থেকে মমতা ও অভিষেকের রাজনৈতিক বার্তা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে চলেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty