নেতাজির চিতাভস্ম কি এবার ফিরবে ভারতে? সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায় ঐতিহাসিক লড়াই শুরু করলেন কন্যা অনিতা বোস!

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম স্বদেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর কন্যা অনিতা বোস ফাফ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাপানের টোকিওর ঐতিহাসিক রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষিত রয়েছে বলেই জোরালো দাবি করা হয়ে আসছে। নেতাজির মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁর শেষকৃত্য বা যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে নেতাজি-অনুরাগীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও কৌতূহল কাজ করছিল। আর এবার সেই দীর্ঘদিনের দাবিকে আইনি রূপ দিতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের কড়া নেড়েছেন তাঁর কন্যা।
আইনি সূত্রের খবর অনুযায়ী, নেতাজির পরিবারের পক্ষ থেকে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর নাতি কিংবা ভাইপোরা আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন, তবে সেই সমস্ত উদ্যোগ সেভাবে সফলতার মুখ দেখেনি। কিন্তু এবার খোদ নেতাজির কন্যা অনিতা বোস ফাফ নিজে আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা তাঁর এই নতুন আবেদনে স্পষ্টভাবে অনুরোধ করা হয়েছে যে, কেন্দ্র সরকার যেন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনার সমস্ত ব্যবস্থা করে।
এই প্রসঙ্গে অনিতা দেবী সংবাদমাধ্যমে অত্যন্ত জোরালোভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই অমর কিংবদন্তির প্রতি যথাযথ ও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে এনে হয় যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা উচিত কিংবা একটি মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকু (বর্তমান তাইপে)-তে এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও, ইতিহাসবিদ থেকে শুরু করে নেতাজির পরিবারের একটি বিশাল অংশ সেই তথ্যের সত্যতা নিয়ে আজও সন্দেহ প্রকাশ করে থাকেন। অনেকেই মনে করেন যে, সেই দুর্ঘটনায় আদতে তাঁর মৃত্যু হয়নি, যা এই ঐতিহাসিক রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এই নতুন ও চাঞ্চল্যকর আবেদনটি বহু পুরনো সেই রহস্য এবং বিতর্ককে আবারও নতুন করে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক মামলায় কী ধরনের নির্দেশ দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারই বা ঠিক কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে দেশের সমস্ত ইতিহাসবিদ, গবেষক ও কোটি কোটি দেশবাসীর।