“ভারতের এক ফোঁটা জল আটকে নেই!”-পাকিস্তানের ভুয়ো প্রোপাগাণ্ডার পর্দা ফাঁস দিল্লির

৬৫ বছরের পুরনো সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা এখন চরমে। সিন্ধুর জল পেতে ভারতের দিকে হা পিত্যেশ করে তাকিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। তবে এই জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে মোদী সরকার নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। দিল্লির স্পষ্ট বার্তা—সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি একসঙ্গে চলতে পারে না। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে জল সংক্রান্ত কোনও চুক্তি করতে হলে ইসলামাবাদকে সবার আগে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সীমান্তপার সন্ত্রাস সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে।

যুদ্ধ ও পরমাণু অস্ত্রের হুমকি পাকিস্তানের

গত কয়েক মাস ধরে পাক সেনা ও ইসলামাবাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব লাগাতার ভারতকে পরমাণু হামলা এবং যুদ্ধের হুমকি দিয়ে চলেছে। দিল্লির উদ্দেশে ইসলামাবাদের হুঙ্কার ছিল, গত বছর সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার পর ভারত যদি সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানে জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তবে তার চরম পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

তবে পাকিস্তানের এই ফাঁকা আওয়াজ ও পরমাণু অস্ত্রের জুজু দেখাতে মোদী সরকার যে একটুও বিচলিত নয়, তা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, ভারতের অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান হলো—ভবিষ্যতে এই চুক্তির বিধান ফের কার্যকর করতে হলে তা পুরনো কাঠামোয় নয়, সম্পূর্ণ নতুন এবং সংশোধিত কাঠামোয় আলোচনার মাধ্যমে পুনর্গঠন করতে হবে।

পাকিস্তানের ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যে ন্যারেটিভ

দিল্লির অভিযোগ, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্তের ফলেই নাকি পাকিস্তানে তীব্র জলসংকট তৈরি হয়েছে—এমন একটি ভুয়ো ন্যারেটিভ প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। পাকিস্তানে যে বিপুল পরিমাণ নদীর জল পৌঁছয়, তার বড় অংশই নষ্ট হয় নিমোক্ত কারণে:

  • পর্যাপ্ত জলাধার ও সংরক্ষণ পরিকাঠামোর অভাব।

  • ব্যাপক জল অপচয় ও পাইপলাইনে লিকেজ।

  • বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জলবণ্টন সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিরোধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতা ঢাকতেই ভারতের ওপর দোষ চাপাচ্ছে পাকিস্তান।

চুক্তির ভবিষ্যৎ ও ভারতের অধিকার

সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে সরকারের এক শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, ভারত এই মুহূর্তে একপেশেভাবে সিন্ধু জলচুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসার প্রক্রিয়া শুরু না করলেও, দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু প্রমাণিত হলে যে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী—

  • পূর্বাঞ্চলীয় নদী: রবি, বিয়াস ও শতদ্রু (ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু)—এই তিনটি নদীর জল ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের।

  • পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী: সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব (সিন্ধু, বিতস্তা ও চন্দ্রভাগা)—এই তিনটি নদীর নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের হাতে।

চুক্তি অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে কিছু অধিকার থাকলেও, পাকিস্তান যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদের রাস্তা চিরতরে ত্যাগ করছে, ততক্ষণ ভারতের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ছাড় পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এখন সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে পাক সেনাকর্তা ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।