সিন্ধু জল চুক্তি কি চিরতরে শেষ? পাকিস্তানকে চরম বার্তা ভারতের! সন্ত্রাসবাদ না থামলে জলের এক ফোঁটাও মিলবে না?

সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) তার বর্তমান রূপে আর কোনো দিনই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত কোনো নতুন ব্যবস্থা কেবল তখনই বিবেচনা করা সম্ভব, যখন পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ স্থায়ীভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করবে। ৬৫ বছরেরও বেশি পুরোনো এই ঐতিহাসিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে জানানো হয়েছে যে, যদি আগামী দিনে এই চুক্তি পুনরায় শুরু করতে হয়, তবে তা কোনোভাবেই পুরোনো কাঠামোর আওতায় হবে না। এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং সংশোধিত কাঠামোর অধীনে নতুন করে আলোচনা করতে হবে। তবে ইসলামাবাদ যতদিন পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের পথ পুরোপুরি ত্যাগ না করছে, ততদিন পর্যন্ত এই ধরনের কোনো পদক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না। মূলত পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী এবং ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগানোর নীতিই এই চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় এবং দুর্লঙ্ঘ্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি এক শীর্ষ সূত্র অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বর্তমান রূপে সিন্ধু জল চুক্তি আর কখনোই জীবন্ত করা সম্ভব নয়। নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিধানগুলি যদি ভবিষ্যতে কোনো দিন ফের চালু করতে হয়, তবে তা পুরোনো কাঠামোয় করা যাবে না। আর সেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ তখনই বাস্তবায়িত হতে পারে, যখন পাকিস্তান তার ভূমি থেকে পরিচালিত সমস্ত সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে এই পথ থেকে সরে আসবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত এক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পরেই ভারত সরকার সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই স্থগিতাদেশ ছিল ওই কাপুরুষোচিত হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঘোষিত একাধিক কঠোর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিহী পদক্ষেপের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের কড়া দাবি ছিল যে, ওই ভয়াবহ হামলাটি চালিয়েছিল দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), যাকে আদতে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (LeT)-র একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর ঠিক পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ মে মাসে ভারত অত্যন্ত সফলভাবে অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও তার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অবস্থিত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ও লঞ্চপ্যাডগুলির উপর জোরালো আঘাত হানা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারি সূত্রগুলি পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, ভারত এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে সিন্ধু জল চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে না। তবে একটি শক্তিশালী এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার স্বার্থবিরোধী বলে মনে হলে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে একপাক্ষিক ও আইনগতভাবে সরে আসার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সরকারি ওই সূত্রের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তি থেকে একেবারে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি নির্ভর করবে আগামী দিনে পাকিস্তান কেমন এবং কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার ওপর। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যদি সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো চিরতরে ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বিশ্বাসযোগ্য এবং অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অন্ধকারই থেকে যাবে। এর পাশাপাশি, ভারত সরকার পাকিস্তানের সেই সমস্ত ভিত্তিহীন দাবিকেও অত্যন্ত জোরালোভাবে খারিজ করে দিয়েছে যেখানে বলা হয়েছিল যে ভারত চুক্তি স্থগিত রাখায় পাকিস্তানে ভয়াবহ জলসঙ্কট দেখা দিয়েছে। উল্টোদিকে ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান যে পরিমাণ জল পেয়ে থাকে তার একটি বিরাট অংশই মূলত নষ্ট হয়ে যায় তাদের অত্যন্ত দুর্বল জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্যাপক জল অপচয়, পাইপলাইনের লিকেজ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে চলমান অমীমাংসিত জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে। ইসলামাবাদ নিজেদের অভ্যন্তরীণ কুশাসন এবং চরম জল ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাগুলিকে ধামাচাপা দিতেই ভারতের কাঁধে বন্দুক রেখে একটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বয়ান ও মিথ্যা প্রচার তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে। সরকার পুনর্বার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভারতের তরফ থেকে বারবার কড়া উদ্বেগ প্রকাশ করা সত্ত্বেও পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।