‘গেটম্যানের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য’, বহরমপুরের ঘটনায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুরের মধ্যবর্তী রেলগেটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। স্কুল পড়ুয়াদের বহনকারী পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা ঘটনার খবর পাওয়ার পরই শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটি কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি সম্পূর্ণ ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের ভুল। গেটম্যান যা করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রেলের গেটম্যানকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই ঘটনার পেছনে যারাই দায়ী থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের তৎপরতা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতির দিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন। মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, আর জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের গাফিলতি ছাড়া সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।

শোকবার্তা ও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “যেসব বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাঁদের শোক লাঘব করার মতো ভাষা নেই। এই কঠিন সময়ে সমগ্র রাজ্য শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।” রেল কর্তৃপক্ষের আর্থিক সাহায্যের ঘোষণার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারও প্রতিটি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, “এই মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।”

ঘটনার পটভূমি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ হাওড়া-নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পর গেটম্যান রেল ক্রসিং খুলে দেন। অভিযোগ, গেট খোলা দেখে স্কুল পড়ুয়াদের বহনকারী টাটা সুমো পুলকারটি লাইন পার হওয়ার সময় তীব্র গতিতে চলে আসা নিমতিতা-কাটোয়া লোকালের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। একই সময় রেললাইন পার হতে গিয়ে সাইকেল আরোহী এক যুবকও প্রাণ হারান।

গোটা ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা থাকলেও, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।