“বুলডোজার নয়, অন্য ব্যবস্থা নিন!” জোহর ইউনিভার্সিটি বিতর্কে এবার মুখ খুললেন মৌলানা শাবুদ্দিন, দিলেন বড় পরামর্শ

সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী আজম খানের স্বপ্নের ‘মোহাম্মদ আলী জোহর বিশ্ববিদ্যালয়’ ভাঙার তোড়জোড় শুরু হতেই দেশজুড়ে তোলপাড়। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলডোজার চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করেছে রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RDA)। আর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এবার গর্জে উঠলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মৌলানা শাহাাবুদ্দিন রজবী বেরেলভি। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
“আজম খানের ভুলের শাস্তি কেন পাবে বিশ্ববিদ্যালয়?”
সংবাদমাধ্যমে জারি করা এক বিবৃতিতে মৌলানা বেরেলভি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আজম খান নিজের কৃতকর্মের জন্য সাজা পাচ্ছেন এবং বর্তমানে জেলেই রয়েছেন। কিন্তু তার জন্য একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ধ্বংস করা কোনো যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
তিনি বলেন:
“জোহর বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে হাজার হাজার পড়ুয়া পড়াশোনা করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই অত্যন্ত দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। আজম খানের ভুলের সাজা যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে না দেওয়া হয়। বুলডোজার চললে এই হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।”
স্বাধীনতা সংগ্রামীর নামে বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাস মনে করালেন মৌলানা
মৌলানা বেরেলভি মনে করিয়ে দেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ভারতের অন্যতম মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী মৌলানা মুহাম্মদ আলী জোহরের স্মৃতিতে তৈরি। জোহর এবং তাঁর পুরো পরিবার দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। গোলটেবিল বৈঠকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কাঁপানো এই দেশপ্রেমিকের অবদানের কথা উল্লেখ করে মৌলানা বলেন, এমন এক ব্যক্তিত্বের নামের প্রতিষ্ঠানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া দেশের ইতিহাসের প্রতি অবিচার।
ধ্বংস নয়, বিকল্প রাস্তার পরামর্শ
রামপুর জেলা প্রশাসন ও যোগী সরকারকে এক অভিনব পরামর্শ দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি। তাঁর মতে, ভবনটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে প্রশাসন অন্য কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিকল্প ১: যে সমস্ত ভবন নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে, উত্তরপ্রদেশ সরকার চাইলে সেগুলিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে (Government Control) নিয়ে নিতে পারে।
বিকল্প ২: বিপুল অঙ্কের জরিমানা বা কম্পাউন্ডিং (Compounding)-এর মাধ্যমে সমস্যার আইনি সমাধান সূত্র খোঁজা যেতে পারে।
মৌলানা বেরেলভির এই বিবৃতির পর জোহর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার। প্রশাসন কি বুলডোজার চালাবেই নাকি বিকল্প পথে হাঁটবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।