অযোধ্যা রাম মন্দিরে আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত! সুপ্রিম কোর্টে এসআইটি-র গোপন রিপোর্ট, বড় বিপাকে অভিযুক্তরা

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান সংগ্রহ এবং পরিচালনা সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে বড় মোড় এল। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে এসআইটি (SIT) তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের খবর, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই তদন্তকারী দলটি তাদের এই রিপোর্ট সরাসরি আদালতে পেশ করবে। পাশাপাশি, তদন্তের পরিধি বিস্তারিত হওয়ায় এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে আরও গভীরে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।

তদন্তের মূল ভিত্তি ও নতুন সূত্র
তদন্তকারী দল গত কয়েক মাস ধরে রাম মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো ও আর্থিক লেনদেনের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। অনুদান গণনার পদ্ধতি, মন্দিরের ব্যাংকিং ট্রানজ্যাকশন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে। রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা, যা এখন যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে যারা আর্থিক তছরুপের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাউকে কোনো অবস্থাতেই রেহাই দেওয়া হবে না।

প্রাথমিক রিপোর্টে বড়সড় গরমিল
এর আগে গত ২৩ জুন এসআইটি তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল। সেই রিপোর্টে মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ও অনুদান প্রক্রিয়ায় পাঁচটি বড় ধরনের ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, মন্দিরের প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিচালনার ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা থাকার কথা ছিল, সেখানে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে দান বাক্স থেকে অর্থ সংগ্রহ, তা ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া এবং গণনাকক্ষে গণনার প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া মন্দিরে নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রসাদ বিতরণ ব্যবস্থা এবং সংগৃহীত সামগ্রীর রক্ষণাবেক্ষণেও স্বচ্ছতার অভাব চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ গতিপথ
তদন্তকারী দল মনে করছে, এই দুর্নীতি কেবল কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে হয়নি, বরং পুরো পরিচালন ব্যবস্থাতেই আমূল সংস্কার প্রয়োজন। আজকের এই অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা পড়ার পর মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের মানুষের। মন্দির প্রশাসনের অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ঘটতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।