সরকার কি এড়াবে বিতর্ক? আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদের মূল লক্ষ্য কোন ৫টি ইস্যু?

সংসদীয় গণতন্ত্রের পীঠস্থানে আবারও তুফান তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গোগোই শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যুক্ত জ্বলন্ত সমস্যাগুলোই হবে তাদের প্রধান হাতিয়ার। কেন্দ্র সরকারের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গোগোই জানতে চেয়েছেন—মণিপুর সংকট, অযোধ্যার বর্তমান পরিস্থিতি, ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা, অটোমোবাইল শিল্পের সংকট এবং ভারতের বর্তমান বিদেশ নীতি নিয়ে সরকার কি আদৌ দায়বদ্ধতা দেখাবে?
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে গৌরব গোগোইয়ের গলায় ঝরে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই কঠিন প্রশ্নগুলো থেকে বাঁচতে এবং জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে ভয় পাওয়া সরকার সম্ভবত সংসদকে সচল হতে দেবে না। গোগোইয়ের কথায়, “আমরা জানি সরকার এই বিষয়গুলোতে জবাব দিতে প্রস্তুত নয়, তাই তারা হয়তো সংসদকে অচল করে দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নেবে।”
তবে বিরোধীদের রণকৌশল কেবল এইটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। গোগোই জানিয়েছেন, সরকারের আনা যেকোনো বিলের ক্ষেত্রে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিক দল ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জনস্বার্থ রক্ষাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে তিনি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি ভিন্ন একটি ইস্যুতে মোদী সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে ‘ডিলিমিটেশন’ বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল আনার যে সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে, কংগ্রেস তার কঠোর বিরোধিতা করবে। এই বিষয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিওয়ারি সাফ জানিয়েছেন, “মহিলাদের অধিকারের নাম করে যদি সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো জটিল বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাব।” সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দানা বাঁধছে। বিরোধীদের দাবি, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠকে বসে সব পক্ষের মতামত নেওয়া।
একদিকে সংসদীয় অধিবেশনের প্রস্তুতি এবং অন্যদিকে বিল নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি—সব মিলিয়ে আগামী কয়েকদিন ভারতীয় রাজনীতির পারদ যে অনেক উঁচুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, সরকার কি আলোচনায় বসবে, নাকি আবারও উত্তাল হবে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন?