বর্ধমানবাসীর জন্য সুখবর! কৃষ্ণসায়র পার্কে আসছে বিজ্ঞানভিত্তিক থিম পার্ক, ১.২৫ কোটির প্রকল্পে কী কী থাকবে?

জেলার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘কৃষ্ণসায়র পার্ক’-কে এবার একটি অত্যাধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক থিম পার্কে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই অভিনব উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শঙ্করকুমার নাথ। তিনি আশাবাদী যে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষ্ণসায়র পার্ক কেবল বিনোদনের গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রাথমিক রূপরেখা ইতিমধ্যেই তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য অধ্যাপক নাথ জানিয়েছেন, বর্তমান ডিজিটাল প্রজন্মের পড়ুয়াদের কাছে বিজ্ঞানকে আরও আকর্ষণীয় এবং সহজবোধ্য করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলে ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, এমনটাই বিশ্বাস কর্তৃপক্ষের।

কৃষ্ণসায়র পার্কে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী, নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক মডেল এবং শিক্ষামূলক উপকরণ স্থাপন করা হবে। ফলে পড়ুয়ারা এখানে এসে হাতে-কলমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এটি শুধু বর্ধমান জেলার পড়ুয়াদের জন্যই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী জেলার স্কুল ও কলেজ স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্যও একটি বিশাল সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ। উপাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর ফলে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি গভীর আগ্রহ বাড়বে এবং গবেষণামুখী মানসিকতা তৈরির পথে এটি এক বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, কৃষ্ণসায়র পার্ককে বিজ্ঞানমুখী করে তোলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করার লক্ষ্যে একাধিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, এরিয়া ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ সেল এবং অ্যালামনি অ্যাফেয়ার্সকে আরও সক্রিয় করে তোলা। উপাচার্য অধ্যাপক নাথ আশাবাদী যে, প্রকল্পটির কাজ শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে এবং এই থিম পার্কটি তৈরি হয়ে গেলে তা ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে বিজ্ঞানের শিক্ষা এবং গবেষণাকে ঘিরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উদ্দীপনামূলক পরিবেশ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের বিজ্ঞানচর্চার মানকে আরও সমৃদ্ধ করবে।