রাজ্যে কি আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি? ইউসিসি নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব!

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকর করার বিষয়ে অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিলেন। সম্প্রতি ইন্দোরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ‘এক দেশ, এক সংবিধান’ নীতির স্বপক্ষে তাঁর অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ব্যক্তিগত আইনের বর্তমান বৈষম্যগুলোর দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বিশেষ করে হিন্দু ও মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের মধ্যে বিদ্যমান অসামঞ্জস্যতাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। বিবাহ এবং উইল সংক্রান্ত আইনগুলোতে যে বিভেদ রয়েছে, তা কাম্য নয়।” তিনি হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত বিবাহ আইনের পার্থক্যের প্রসঙ্গ তুলে একটি চমকপ্রদ তুলনা টানেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভগবান শ্রীরাম যদি একবারই বিবাহ করে থাকেন, তবে রহিম কেন একাধিকবার বিবাহ করবেন? আইনি সমতা আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তাঁর এই মন্তব্য মূলত দেশের প্রচলিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত আইনকে এক ছাতার তলায় আনার প্রয়োজনীয়তাকে ইঙ্গিত করে।

মোহন যাদব দাবি করেছেন যে, ভারতের মতো একটি বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে সংবিধানের মূল চেতনা বজায় রাখার জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত আইনের এই জটিলতা সমাজ ও দেশের একতাকে ব্যাহত করে। তাই ‘এক দেশ, এক সংবিধান’ নীতির মাধ্যমেই প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রদেশ সরকার ইউসিসি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা—‘এক দেশ, এক আইন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করার সরকারি তোড়জোড় শুরু হলে আইনগত ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক বিতর্কের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে খুব দৃঢ়ভাবেই জানিয়েছেন, ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান আইন প্রণয়ন করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান প্রণেতারা দেশের মানুষের জন্য একটি সুশৃঙ্খল আইন ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।

ইন্দোরের এই অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিটি কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং এটি ইউসিসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মধ্যপ্রদেশ সরকার ঠিক কত দ্রুত এই প্রস্তাবকে আইনি রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় হাত দেয় এবং রাজ্যের বিভিন্ন মহল থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কী আসে। আপাতত, ইউসিসি নিয়ে মোহন যাদবের এই মন্তব্যে দেশজুড়ে নতুন করে জাতীয় স্তরের বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।